গত দেড় মাস প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমাচ্ছেন বৃদ্ধা, এই কাহিনি সিনেমাকেও হার মানায়

Feature Image

নিজের সন্তানদের সাজানো সংসারে তাঁর ঠাঁই নেই। একাকীত্বই তাঁর সম্বল। তাই নিজেই নিজের পুজো সাজাতে খুচরো জমাচ্ছেন বৃদ্ধা।

বজবজের একটি বস্তির বাসিন্দা সোনিয়া সিংহ আগে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতেন। কিন্তু বয়সের কারণে এখন আর কাজ জোটে না। তাই এই ৭৬ বছর বয়সেও প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাদবপুর এইটবি মোড়ে ভিক্ষা করেন। কিন্তু এই ধূসর জীবনেও সম্পর্কের মায়া ঠেলে ফেলতে পারেন না। পুজোয় নাতিকে নতুন জামা কিনে দিতে চান তিনি। এজন্য গত দেড় মাস প্রতিদিনের রোজগার থেকে দশ টাকা করে সরিয়ে রাখছেন তিনি।

সোনিয়ার জন্ম বাংলাদেশের ঢাকা শহর সংলগ্ন একটি গ্রামে। পঞ্চাশের দশকের শেষে চলে আসেন ভারতে। বজবজ এলাকার একটি বস্তিতে মাথা গোঁজার জায়গা মিললেও সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল দারিদ্র। বাবার মৃত্যুর পর সোনিয়ার বিয়ে হয়। কয়েকবছরের মধ্যেই মারা যান স্বামী। পরিচারিকার কাজ করার পাশাপাশি রাতে ঠোঙা বানিয়ে দুই ছেলেমেয়েকে বড় করেন তিনি।

সোনিয়া বলেন, ‘‘বিয়ের সময় ছেলে তেমন কিছু রোজগার করত না। আমার সঙ্গেই থাকত। চাকরি পেয়ে ২০০৬ সালে বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলে গেল সোনারপুরে।



ওর ছেলে এখন বড় হয়েছে। বহুদিন দেখি না। একটা জামা কিনে দিতে ইচ্ছে। টাকা জমাচ্ছি। কিন্তু ওরা তো দেখাই করে না। মেয়েরও বিয়ে হয়েছে। থাকে সুন্দরবনের দিকে। সংসার সামলে আসতে পারে না। ’’

সন্তানরা মুখ ফেরালেও দু’বছর আগে পর্যন্ত সে নিয়ে ভাবেননি সোনিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা আসত না। আমিও যেতাম না। কাজ করতাম। বুড়ো হয়ে গিয়েছি বলে এখন আর কাজ জোটে না। তাই ভিক্ষা করি। একা লাগে। নাতিটাকে দেখতে ইচ্ছে করে। ’’ বৃদ্ধার ছেলেকে ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমার নিজেরও আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। তাই সবসময় মায়ের কাছে যাওয়া হয় না। ’’
বৃদ্ধা যেখানে ভিক্ষা করেন, তার উল্টোদিকেই নামী মিষ্টির দোকান। সোনিয়া বলেন, ‘‘ঠিক করেছি, পুজোর ক’দিন ওখানে খাব। ক’দিনই বা আর বাঁচব!’’

আরো খবর »