খোকসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে  শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে সন্তোষজনক উপস্থিতি

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

কুষ্টিয়া: কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসাবে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা মনিটরিং সেল এর মাধ্যমে গত ৬ই সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ সেলিনা বানুকে সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সদস্য সচিব করে ১০সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

গত এক সপ্তাহের মনিটরিং এর ফলাফলে উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার সন্তোষজন হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষা মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আজ সোমবার খোকসা কলেজে সকাল ১০টায় বাংলা ক্লাস চলাকালীন সময় দেখা গেছে একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের প্রায় সাড়ে ৩শত শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতি প্রায় ৩শত জন।

বাংলা প্রভাষক চৌধুরী মিতা রফিক ক্লাসরত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় শিক্ষা মনিটরিং কমিটি ও অভিভাবক সকলকে ধন্যবাদ জানান।তিনি জানান প্রজ্ঞাপন জারির (৬ই সেপ্টেম্বরের আগে) ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫% আজকের (সোমবার) ক্লাসে উপস্থিতির হার ৮৭%। তিনি মনে করেন নিয়মিত শিক্ষার্থীগণ ক্লাসে উপস্থিত হলে কোন কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাস কোন শিক্ষার্থীর করা লাগবে না। একদিকে যেমন অভিভাবকের অর্থের সাশ্রয় হবে অপরদিকে সরকারের পরিপত্রের সঠিক মূল্যায়ন হয়ে প্রকৃত মেধাবিকাশ প্রতিফলিত হবে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মাঝে তৈরী হবে এক সেতু বন্ধন যা কিনা দিতে পারে নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষার মাধ্যমে।

খোকসা কলেজের উপাধ্যাক্ষ প্রদীপ কুমার সরকার জানান সরকারের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের পরিপত্র ২০১২সালে জারি করলেও কার্যত তা অচল হয়েছিল। বিভাগীয় কমিশনারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমের মনিটরিং সেলের নতুন করে ঐএকই পরিপত্র বাস্তবায়নের নিরিক্ষে প্রতিটা উপজেলায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ও শিক্ষা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। তারই ফলশ্রুতিতে খোকসা উপজেলার খোকসা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্লাস মূখী হওয়ায় আজকে (সোমবার) ক্লাসে সন্তোষজনক উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

এসময় বাংলা বিভাগীয় প্রধান মোঃ ওয়াজেদ আলী এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

খোকসা উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানাগেছে উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৪টি, মাদ্রাসা ৮টি ও কলেজ ৪টি। এই বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেগোনা কয়েকজন অসাধু শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্বে বৃহৎ শিক্ষা গোষ্ঠি ও অভিভাবক জিম্মি হয়েছিল শিক্ষা কার্যক্রমে। সরকারের শিক্ষা মনিটরিং কমিটি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষামূখী হওয়ার কার্যক্রমের এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার সন্তোষ জনক হয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »