জোরালো চাপের মুখে সু চি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি।

বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ ও একটি আঞ্চলিক জোট মিলে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করতে সু চির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার টেলিভিশনে সরাসরি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মিয়ানমারের এই নোবেলজয়ী নেত্রীর। এর কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে এক পার্শ্ব বৈঠকে এ আহ্বান জানান নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন, কানাডা, ডেনমার্ক, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মন্ত্রী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অংশ নেন।

অং সান সু চির সম্ভাব্য ভাষণকে ‘সংজ্ঞাবহ মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর যুক্তরাজ্য বলেছে, সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বৈঠকের পর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে গণতান্ত্রিক যাত্রায় উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি করেছে মিয়ানমার কিন্তু রাখাইনে যে ভয়াবহভাবে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে ও সহিংসতা চলছে, সেটি দেশটির সুনামের জন্য বাধা।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার ও অং সান সু চিকে এটি পরিষ্কার করতে হবে- এ সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে।’

গত মাসের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ ও সেনাচৌকিতে কথাকথিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হামলার পর রাখাইনে অভিযানের নামে তাণ্ডব শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্রবাদী বৌদ্ধরা। গ্রামের পর গ্রাম ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে খুন-ধর্ষণ, গুম ও লুটপাট শুরু হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। নিহত হয়েছে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলায় তাদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।

সোমবারের বৈঠকের পর মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তান রয়টার্সকে বলেছেন, ‘যারা বাড়ি ছেড়েছে, তাদের প্রত্যেকে বাড়ি ফিরতে পারবে- তাদের সরকার এ বিষয়টি নিশ্চিত করবে। কিন্তু এটি একটি আলোচনাসাপেক্ষ প্রক্রিয়া।’ তিনি আরো বলেন, যাদের মানবিক সহায়তা দরকার, তারা প্রত্যেকে তা পাবে- বৈষম্যহীনভাবে মিয়ানমার এটি নিশ্চিত করতে চায়। এ বিষয়ে আমরা সম্মত হয়েছি।’

তবে যে যা-ই বলুন না কেন, আজ সবার দৃষ্টি থাকবে সু চির ওপর। কী বলবেন তিনি? রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেবেন নাকি অন্য কিছু? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »