মহালয়ায় শুরু দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: মর্ত্যে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা শুরু হলো আজ মঙ্গলবার থেকে। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা ও ভক্তির মাধ্যমে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হলো। দেবী দুর্গার আগমনী বন্দনার এই আয়োজনকে বলা হয় মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর ছয় দিন আগে হয় এই মহালয়া।

রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আজ ভোর থেকেই পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। আজ সকাল ছয়টায় চণ্ডীপাঠ, ভক্তিমূলক গান ও নাচের মধ্য দিয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুপুর ১২টায় দেবীর আবাহনের জন্য মূল পূজা, অর্থাৎ ‘ঘট স্থাপন’ হবে। রাজধানীর বনানীতেও সকালে মহালয়ার আয়োজন করা হয়।

তবে কলাবাগানে আজ ভোরে অনুষ্ঠান হয়নি। কলাবাগান পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। আর কাল সকালে পূজার মাধ্যমে ঘট বসানো হবে। আমরা পঞ্জিকা মতে দেখেছি, অমাবস্যা আজ দুপুর ১২টায় লাগবে। থাকবে কাল ১২টা পর্যন্ত। আর এ সময়ের মধ্যেই পূজা করতে হবে।’

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব কুমার দে মহালয়া সম্পর্কে বলেন, ‘পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে দেবীপক্ষের শুরুই হচ্ছে মহালয়া। মহালয়ার পর থেকে ১৫ দিন হচ্ছে দেবীপক্ষ। মহালয়ায় দেবী দুর্গার আবাহন ছাড়াও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যাকে তর্পণ বলে।’

শারদীয় দুর্গা উৎসবকে অকালবোধনও বলা হয়। অকালবোধন সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া থেকে জানা যায়, রামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য অকালে—শরৎকালে—দেবীর পূজা করেছিলেন। তখন থেকে এর নাম হয় অকালবোধন বা শারদীয় দুর্গাপূজা। বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ আছে, পুরাণ অনুসারে, রাজ্যহারা রাজা সুরথ এবং স্বজনপ্রতারিত সমাধি বৈশ্য একদিন মেধস মুনির আশ্রমে যান। সেখানে মুনির পরামর্শে তাঁরা দেবী দুর্গার পূজা করেন। দেবীর বরে তাঁদের মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ পূজা বসন্তকালে হয়েছিল বলে এর নাম ছিল ‘বাসন্তীপূজা’। বাসন্তীপূজা হয় চৈত্রের শুক্লপক্ষে, আর শারদীয় দুর্গাপূজা হয় শরৎকালে। তবে বর্তমানে শারদীয় দুর্গাপূজাই অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »