ঈশ্বরদীতে অটো শিমের ফুলে ফুলে ভরে গেছে মুলাডুলির বিস্তীর্ন ফসলের মাঠ

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঈশ্বরদী থেকে সেলিম আহমেদ: দেশের প্রধান শিম উৎপাদনকারি এলাকা হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরদীতে (শিমের আগাম জাত) অটোর ফুলে ফুলে ভরে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠ। ঈশ্বরদীর মুলাডুলির যেদিকে তাকানো যায় শুধুই শিম চাষের সমারোহ চোখে পড়ে। শিমের ফুলের মহুমহু গন্ধে মুলাডুলিতে এক অন্যরকম পরিবেশ বিরাজ করছে।

কোন কোন কৃষকের আগাম লাগানো অটো শিম ইতিমধ্যে বাজারে বিক্রিও শুরু হয়েছে। খরচের তুলনায় দাম একটু বেশি পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তাই কৃষকরা এখন ‘অটো’ শিমের মরা ফুল বাছাই ও ফুল রক্ষার কাজে মহাব্যস্ত। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে ঈশ্বরদীর মুলাডুলিসহ পার্শ্ববর্তী প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ এখন শিমের ক্ষেতে ফুল ফলের পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শিম শিতকালিন সবজি হলেও ঈশ্বরদীর শিম চাষিরা এবার আগে-ভাগেই অটো নামের নতুন জাতের শিম আবাদ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন। অনেক চাষি তাদের আগাম লাগানো অটো জাতের শিম বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। দামও পেয়েছেন তুলনামূলক ভালো। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভাল হওয়ায় ঈশ্বরদীর প্রায় ২ হাজার শিম চাষি এখন তাদের নিজ জমি ও খাজনা করা জমিতে অটো জাতের শিম পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এখন মুলাডুলির যেদিকে তাকানো যায় শুধুই অটো জাতের শিম চাষের প্রস্তুতি ও মাচার উপর শিম ফুলের মহা-সমারোহের চিত্রই চোখে পড়ে।

গতকাল বুধবার সকালে ঈশ্বরদীর মুলাডুলির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র পাওয়া গেছে। শিম চাষকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার ও সমিতি। এই বাজার থেকেই উৎপাদিত শিম প্রতিদিন ট্রাকে লোড হয়ে পৌছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। উৎপাদনের তুলনায় দাম ভাল হওয়ায় প্রায় তিনগুন দামে বিক্রি হচ্ছে এই শিম। আড়াৎদাররা জানান, মৌসুম না হলেও শিম বাজারে আসায় প্রতি কেজি শিম প্রায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামি সপ্তাহ খানিকের মধ্যেই অটো জাতের শিম পুরোপুরি বাজারে উঠবে বলে জানান মুলাডুলি এলাকার শিম চাষিরা।

ঈশ্বরদীতে এবার চলতি মৌসুমে এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানিয় কৃষি বিভাগ। তবে এই পরিমান আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন তারা। কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে, গত মৌসুমে ঈশ্বরদীতে এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ছাড়াও ফরিদপুর, আটঘড়িয়া, শেখপাড়া, রামনাথপুর, রাজাপুর, হাজারি পাড়া, পারখিদিরপুর, দুবলাচারা, পতিরাজপুর, আড়কান্দি, বাঘহাসলা, দরগাপাড়া, গোপালপুর, মাঝগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ এখন শিম চাষের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। এ এলাকার ৯৫ ভাগ জমিতে শিম চাষ হওয়ার কারনে মুলাডুলিতে গড়ে উঠেছে দেশের শিম বিপননের প্রধান কেন্দ্র। শিম উৎপাদনের সময় এই মুলাডুলি থেকেই প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক শিম ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতার পদভারে সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত মুখোরিত থাকে মুলাডুলির শিম বাজার।

শিম চাষি আবু তালেব জোয়াদ্দার জানান, বৈরি আবহাওয়ার পরেও ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে এবার শিমের বাম্পার ফলন হবে। তিনি তার খামারের ৫ বিঘা জমিতে শিম লাগিয়েছেন ফুল এসেছে অনেক ভালো বলে জানান। তিনি বলেন, সিজন সময়ে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার শিম এই বাজার থেকে বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি শিম রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ঈশ্বরদীতে একটি মাল্টিপারপাস কোল্ডষ্টোরেজ নির্মানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক বিভূতী ভূষণ সরকার জানান, গত বছর শিম মৌসুমে ঈশ্বরদীতে এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। কৃষকরা এখন আগাম জাতের অটো শিম চাষে ব্যস্ত রয়েছে, তাছাড়া ফলনও বাজারে উঠতে শুরু করেছে। অটোর ফুলে ফুলে ভরে গেছে মুলাডুলির কৃষকের শিমের মাঠ। এদিকে দেশিয় জাতের শিম চাষের জন্য কৃষকরা এখন পুরোদমে বেড তৈরি ও মাচা নির্মাণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে নিচু এলাকার শিম চাষিদের বেড তৈরি করতে একটু দেরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে বলেও তিনি জানান।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

 

আরো খবর »