সীমাহীন সমস্যায় জর্জরিত কোটালীপাড়ার দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্প

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি,স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গোপালগঞ্জ থেকে এস এম সাব্বির: হোক জরাজির্ণ বাসস্থান। তাতেই বসবাস করছে ১শ পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ। কিন্তু নিবিঘ্নে সেই বাড়ি ফেরার রাস্তাটা দুর্গম হয়ে পড়েছে যাতায়াতের একটি মাত্র ব্রীজের জন্য। আশ্রায়ণ কেন্দ্রে যাতায়াতের একমাত্র ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়ে আশ্রায়ণ প্রকল্পের নিবাসীরা এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। সাঁকো ভেঙ্গে পড়ায় আশ্রায়ণে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুকিপূর্ণ এ সাঁকো পারাপর হতে গিয়ে আনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা। পা পিছলে পড়ে গিয়ে আনেকেই আহত হয়েছেন।

শুধু ব্রীজ নয় এমন অন্তহীন সমস্যা রয়েছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেরার দেবগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পে। প্রকল্পের ১শ টি ঘরের প্রায় প্রতিটিতেই বৃষ্টি হলে ঘরের টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। ঘরের টিনের বেড়া, জানালা, দরজা গুলো জড়াজীর্ন ও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। এ আশ্রায়ণ প্রকল্পে রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। ৫টি ডিপ-টিউবঅয়েলের মধ্যে ৪টিই বিকল। আশ্রায়ান প্রকল্পের টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনিরাপদ এ সেনিটেশন ব্যবস্থায় জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকীর মুখে। এছাড়া ২০০৭ সালে বয়ে যাওয়া সিডরের স্মৃতি চিহ্ন আজও রয়েগেছে আশ্রায়ণের কমিউিনিটি সেন্টারটিতে। যার শুধু খঁটিগুলিই ঠায় দাড়িয়ে রয়েছে। আশ্রায়ণের ২ টি উপাশনালয়েরও বেহাল দশা। এখনে শিশুদের কোন খেলার মাঠ নেই। এমন সব সমস্যা নিয়ে দিন কাটছে দেবগ্রাম আশ্রায়ণের পরিবারগুলি।

দেবগ্রাম আশ্রায়ণের গৃহবধূ পারভিন বেগম বলেন, এখানে ৫টি গভীর নলকূপের মধ্যে ৪টিই বিকল। তাই খাবার পানির তীব্র সংকট। একটির পানি দিয়ে আশ্রয়ণের পানির চাহিদা মিটছে না। এখানকার টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

আশ্রায়ণ নিবাসী শুকচান বাড়ৈ বলেন, যতই দিন গড়াচ্ছে আশ্রায়ণে  ততই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। বৃষ্টি এলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ছে। এ পানিতে ঘরের মেঝে ভেসে যাচ্ছে। ঘরের বেড়া জড়াজীর্ন হয়ে পড়েছে। বেড়া নড়বড়ে হয়ে পড়ায় ঘরগুলো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে।

আরো একক বাসিন্দা লিটন বিশ্বাস বলেন, প্রায় ৬ বছর ধরে আশ্রায়নে যাতায়াতের এক মাত্র ব্রীজটি ভাঙ্গা রয়েছে। এ সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করছি। এ সাঁকো দিয়ে যানচলাচল করতে পারেনা। পণ্য আনা নেয়া করা যায়না।

বাসিন্দা নিখিল হালদার (৫৫) বলেন, মন্দির ও মসজিদের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এখানে শিশুদের খেলার জায়গা নেই।

কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ২০০১ সালে দেবগ্রামের ৮ একর জমির ওপর  নির্মিত ওই আশ্রায়ণ প্রকল্পে ১০ মুক্তিযোদ্ধাসহ ১’শ দুঃস্থ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। প্রত্যেককে ৮ শতাংশ জমির দলিলসহ দেয়া হয় বসবাসের ঘর। দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্প গ্রহন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এলজিইডিতে পাঠানো হয়েছে। ব্রীজ সহ সব সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »