কালকিনিতে তুচ্ছ ঘটনায় ২অসহায় পরিবারে দ্বন্দ্ব গ্রাম পুলিশের প্ররোচনায় মামলা

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মাদারীপুর থেকে ইকবাল হোসেন: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেরামপুর এলাকার চর সাহেবরামপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্রকরে ২টি অসহায় দিনমজুর পরিবার চরমদ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। আর উক্ত দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে জসিম সরদার নামের এক গ্রাম পুলিশ বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারপ্ররোচনায় একটি মামলা হলেও আরো মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। তবে এনিয়ে গ্রামের ইউপি সদস্যথেকে শুরু করে গন্যমান্য ব্যক্তি সহ সাধারন মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, গত ৩০আগস্ট বিকেলে চর সাহেবরামপুর গ্রামের আবুল বাসার সরদার দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকলে প্রতিবেশী হানিফ সরদারের মেয়ে কিছুটা মানষিক ভারসাম্যহীন আকলিমা বেগম দুষ্টমি সরূপ মাথায় মাটি দিয়ে চলে যায়। এনিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে প্রথমে ঝগড়া এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আবুল বাশারের স্ত্রী ৬মাসের অন্তঃসত্তা তামান্না আক্তার লাঠি দিয়ে আঘাত করে হানিফ সরদারের ছেলে বাচ্চু সরদারের মাথা ফাটিয়ে দেয়। আর হানিফ সরদারের পরিবারের লোকজনও প্রতিপক্ষ বাশারের পরিবারের লোকজনের সাথে মারামারিতে লিপ্তহয় এবং স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা গ্রহন করে। এনিয়ে গ্রামের ইউপি সদস্যকে সামনে রেখে গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিরা শালিস মানিয়ে দেয়।

কিন্তু গ্রামের গ্রাম পুলিশ জসিম সরদার বাচ্চু সরদারের মাথা ফাটানোর ঘটনায় মামলা দিতে প্ররোচনা করে এবং কিছু উৎকোষও দাবী করে। তবে তার প্ররোচনায় কান নাদিয়ে উভয় পক্ষ সালিশ মিমাংসায় বসে এবং উভয় পক্ষের চিকিৎসা ব্যায় বাবদ জড়িমানা করে মিমাংসা করা হয়।

কিন্তু এঘটনার ১৪দিন পরে আবুল বাশারের সেই অন্তঃসত্তা স্ত্রী তামান্না আক্তার বাড়িতে বসে একটি মৃত সন্তান প্রসাব করে। শুরু হয় ফের সেই গ্রাম পুলিশ জসিম সরদারের প্ররোচনা। তার প্ররোচনায় সেই ঘটনাকে পুঁজি করে হানিফ সরদারের পরিবারের ৭জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এব্যাপারে আবুল বাসারের মামা সিদ্দিক ফকির বলেন ‘ মারামারির ঘটনা গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ মিমাংসা করে দিয়েছিল। কিন্তু পরে গ্রামের চৌকিদার( গ্রাম পুলিশ) জসিম সরদারের প্ররোচনায় আমার ভাগ্নে বউ তামান্না প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। কিন্তু উভয় পক্ষই গ্রামের দরিদ্র পরিবার ও দিনমজুর। তাই উক্ত মামলার কারণে তারা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা এর সূরাহা চাই।

এলাকার ইউপি সদস্য রুহুল আমীন বেপারী, সালিশ আলী আকবার বেপারী, আ ঃরব খান, আলাউদ্দিন সরদার সহ ১০/১২জন গ্রামবাসী জানায়, বিষয়টি সালিশ মিমাংসা হলেও গ্রাম পুলিশ জসিম সরদারের প্ররোচনায় মামলায় গড়িয়েছে। সেখানে উভয় পক্ষই দরিদ্র পরিবার হওয়ায় তারা এখন চরম বিপাকে রয়েছে। আমরাও এর সূরাহা চাই।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এস.আই বাবুল বসু বলেন ‘ বিষয়টি নিয়ে একটি মারামারির মামলা হয়েছে এবং আমরা আসামী ধরতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে উভয় পক্ষই দরিদ্র ও দিনমজুর পরিবার হওয়ায় গ্রামবাসী এটি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে শুনেছি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »