খাদ্য গুদামে ভাল চালের সাথে পচা চাল মেশানো হচ্ছে

Feature Image

গৌরনদী (বরিশাল)ঃ  বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরকারী খাদ্য গুদামের ভাল চালের সাথে দফায় দফায় খাবার অনুপোযোগী পঁচা চাল মেশানোর সময় হাতে নাতে ধরা পড়লেও গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক বা আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পঁচা চাল মেশানোর ছবি তোলার সময় খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মিনার বৈদ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিকের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খাদ্য গুদামের কর্মচারী ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানাগেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গৌরনদী বন্দরস্থ সরকারী খাদ্য গুদামের সামনে দুটি ট্রাক ভর্তি ২০০ বস্তা পঁচা চাল আসে। ওই দিন রাতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মিনার বৈদ্য তার নিজস্ব লেবার দিয়ে চাল খালাস করে গুদামজাত করেন এবং গোপনে অফিস বন্ধের দিনে ভাল চালের সাথে ওই পঁচা চাল মেশানো শুরু করেন।

খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী মীর আব্দুল হক জানায়, শুক্রবার সে ছুটিতে ছিল। শনিবার সকালে কাজে যোগদান করে সে দেখতে পায় গুদামের মধ্যে কয়েকজন লেবার ভাল চালের সাথে পঁচা চাল মেশানোর কাজ করছে। এ সময় সে বাঁধা দিলে লেবাররা তার বাঁধা উপেক্ষা করে পঁচা চাল মেশানোর কাজ চালিয়ে যায়। পরবর্তিতে সে গোপনে বিষয়টি মুঠোফোনে বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) রেজা মোহাম্মদ মহসিন ও বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) মো. মশিউর রহমানকে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে কর্মকর্তাদ্বয় তাৎক্ষনিকভাবে গৌরনদী খাদ্য গুদামে চলে আসেন এবং পঁচা চাল মেশানোর ঘটনা হাতে নাতে ধরে ফেলেন।

গুদামের আশপাশের এলাকাবাসীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে গৌরনদী সরকারী খাদ্য গুদামের ২নং গুদামে ভাল চালের সাথে পঁচা চাল মেশাতে দেখে তারা গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেলকে ঘটনাটি জানান। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল এ ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেননি। পরে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদেরকে ঘটনাটি জানানো হলে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় দুই সাংবাদিক। তারা ২নং খাদ্য গুদামে পৌছে লেবার মো. সেলিম (৩৫) ও আব্দুল জলিলকে (৪৫)কে ভাল চালের সাথে পঁচা চাল মেশাতে দেখে ছবি তোলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মিনার বৈদ্য।

 

তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান কার অনুমতিতে গুদামে প্রবেশ করেছেন। এক পর্যায়ে একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধির ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জোর করে ছিনিয়ে নেয় মিনার বৈদ্য। তাৎক্ষনিক গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলামকে ঘটনাটি জানানো হলে থানার এস.আই মো. সগির হোসেনসহ একদল পুলিশকে তিনি ঘটনাস্থলে পাঠান।

 

পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় ওসিএলএসডি মিনার বৈদ্য সাংবাদিকের ক্যামের ও মোবাইল ফোন ফেরত দেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে গৌরনদী উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মিনার বৈদ্যে বলেন, পঁচা চাল মেশানোর অভিযোগ সত্য নয়। শনিবার রাতে গৌরনদী বন্দরের চাল ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের ১৮০ বস্তা চাল গুদাম এলাকায় খালাস করা হয় ওই চাল আমাদের ছিল না। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশ্রাফ আহম্মেদ রাসেল বলেন, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জানিয়েছে গুদামে পুরাতন চাল রয়েছে। নতুন করে কোন পঁচা চাল মেশানো হয়নি।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা স্বীকার করে বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) রেজা মোহাম্মদ মহসিন মোবাইল ফোনে বলেন, বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের সহকারী রসায়নবিদ মো. বোরহান উদ্দিনকে প্রধান করে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট হাতে পেলেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরো খবর »