যশোরে মুত্যুর সাড়ে তিন মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

Feature Image

যশোর থেকে কে এম নাজির আহমেদ : যশোরে আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার বহুল আলোচিত জালাল মোল্যার লাশ ময়না তদন্তের জন্য অবশেষে কবর থেকে উত্তোলন করেছে যশোর সিআইড পুলিশ। নিহতের স্বজনদের দাবি জালাল মোল্যাকে শ্বাশরোধ করে হত্যা করা হয়েছিলো।
৩ মাস ২০ দিন পর নিহতের লাশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে ও এনডিসি আরিফুর রহামানের উপস্থিতে মাগুরা জেলার শালিখা থানার শতখালি গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থান থেকে তোলা হয়। লাশটির ময়না তদন্তের জন্য এখন যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি জালাল মোল্যাকে শ্বাশরোধ করে হত্যা করে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।। জালাল মোল্যা যশোর সুজলপুর আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ছিলেন। সে মাগুরা জেলার শালিখা থানার শতখালি গ্রামের মৃত সাহেব আলী মোল্যার ছেলে।
নিহতের ভগ্নিপতি জাহিদুল হক হাসপাতালে এ প্রতিনিধিকে বলেন, তার শ্যালক জালাল মোল্যা যশোর সুজলপুর আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ছিলেন।

 

জালাল মোল্যা স্ত্রী মারুফা ইয়াসমিন পলির চরিত্র ভাল ছিলনা। সে আকবর মিয়ার জামাই নিপ্পনের সাথে পরোকিয়া প্রেমে আশক্ত ছিল। জালাল মারা যাওয়ার তিন মাস আগে নিপ্পনের সাথে পলি ভারতে বেড়াতে যায়। এই নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলেহের চলছিল। এছাড়া নিপ্পন এবং পলিকে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ধরে ফেলে জালাল। পথের কাটা দূর করতে ঘটনার দিন ৩ জুন দিবগত গভির রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিহতের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসলেও লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে তড়ি ঘরি করে ৪জুন সকালে দাফন সম্পন্ন করেন।

যশোর সিআইডি পুলিসের পরিদর্শক হরুনর রশিদ হাসপাতালে এ প্রতিনিধিকে বলেন, জালাল মোল্যা মারা যাওয়ায় নিহতের বড়ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদি হয়ে আদালত একটি হত্যা মামলা করা করেন। মামলাটি গত ১৩ই আগষ্ট যশোর কোতয়ালি থানায় রেকর্ট হয় (৭৩/১৩.০৮.১৮) এবং ৩০ আগষ্ট মামলাটির তদন্তের দ্বায়িত্ব পান পরিদর্শক হরুন অর রশিদ। এরপর তিনি আদালতে নিহতের লাশ তুলে ময়না তদন্তের অনুমতি চান। আদালত অনুমতিতে শনিবার বেলা ১২টার দিকে শতখালি গ্রাম থেকে লাশ তুলে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে এনেছেন। হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ ফেরত দেওয়া হবে পূনরায় দাফনের জন্য।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে ও এনডিসি আরিফুর রহামান বলেন, তার উপস্থিতিতে শালিখা থানার শতখালি গ্রাম থেকে নিহতের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। নিহরে কবর থেকে কিছু মাটি কাফনের কাপড়ের কিছু অংশ এবং লাশ তুলে এনে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য।

নিহতের স্ত্রী মারুফা ইয়াসমিন পলি এ প্রতিনিধিকে বলেন, গত ৩জুন দিবাগত গভির রাতে আমার স্বামী জলালের বুকে ব্যাথায় এবং শ্বাস কষ্টে সে মারা যায়। তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়নি। আমার স্বামীর অনেক জায়গা জমি আছে সে গুলি আত্মসাত করার জন্য আমার নামে মিথ্যা কলঙ্ক রটানো হয়েছে।

আরো খবর »