চিকিৎসার অভাবে ২ সপ্তাহের ব্যাবধানে মারা গেছে ২ জন

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাক: জেলার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে গত ২ সপ্তাহের ব্যাবধানে ২ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বরাবরের মত তা অস্বীকার করে আসছেন। উল্টো চিকিৎসার অভাবে নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, গতকাল শনিবার বিকালের দিকে ডোমার উপজেলার পুর্ব বোড়াগাড়ী হলদিয়াবন এলাকার মোজাফ্ফর আলীর ৯ম শ্রেনীতে পড়–য়া মেয়ে লিমু আক্তার নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্বহত্যার চেষ্টা করে।

বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় তার পরিবারের লোকজন বিকাল সাড়ে ৫ টায় লিমুকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে লিমুকে রাখা হলেও হাসপাতালে সে সময় কোন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। হাসপাতালের কাগজপত্র অনুযায়ী শামীমা নামের একজন প্যারামেডিক সে সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় ঘন্টাখানেক পরে চিকিৎসক এসে রোগীকে চিকিৎসা দেয়া শুরু করলে পরক্ষনেই লিমু মারা যায়। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী হাসপাতাল চত্বরে  জড়ো হয়ে এর বিচার দাবী করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে পাঠায়। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল কতৃপক্ষ এলাকাবাসীর নামে ডোমার থানায় চিকিৎসক শামীমাকে নির্যাতন ও হাসপাতালে ভাংচুরের অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অপরদিকে আজ রবিবার হাসপাতাল কতৃপক্ষ সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছেন। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ চালু থাকলেও আউটডোরে অনেক রোগীকে টিকিট কেটে চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যেতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতিপুর্বে গত ৬ সেপ্টেম্বর জলঢাকা উপজেলার বাঁশদহ গ্রামের সলিম উদ্দিনের পুত্র মহুবর রহমান (৫০) নামে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়।

নিহত মহুবরের ভাতিজা আনোয়ারুল হক সে সময় অভিযোগ করেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে বুকে ব্যাথা নিয়ে আমার চাচা মহুবর রহমানকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। রাত ১১টার দিকে রোগী ভর্তি করা হলেও কোন চিকিৎসক না থাকায় রোগী কোন চিকিৎসা সেবা পায়নি। পরদিন সকালে সকালে রোগী ছটফট করতে থাকলে আবারো চিকিৎসকের জন্য বিভিন্ন কক্ষে ছোটাছুটি করতে থাকি। সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সহ সকলে বাইরে থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে সকাল ১১ টার দিকে মারা যায় মহুবর।

অপরদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর ওই হাসপাতালের বিষপানে আত্বহত্যার চেষ্টাকারী অজ্ঞাত এক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও হাসপাতাল কতৃপক্ষ থানা পুলিশকে না জানিয়ে লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা কারিবুল হাসান নাবিল তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রঞ্জিত কুমার বর্মন ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ধারাবাহিক এ ঘটনাগুলো স্বীকার করে জানান, হাসপাতাল কতৃপক্ষ কোন প্রসিডিউর না মেনেই চলছে। বিষয়গুলি ধীরে ধীরে নির্ণয় করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি দাবী করেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »