সৌদিতে গিয়েছিলেন কাজের আশায়….

Feature Image

সৌদি আরবে ১৪ মাসের নারকীয় জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরলেন ভারতীয় মহিলা। কার্যত ‘ক্রীতদাসী’ বানিয়ে রাখা হয়েছিল তাঁকে। দামি চাকরির টোপ দেখিয়ে তাঁকে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশেষে সেই ফাঁদ থেকে মুক্তি পেলেন তিনি।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, মুম্বইয়ের একটি চাকরি দেওয়ার এজেন্সি জাসিন্থা মেনডোনসা নামের ওই মহিলাকে কাতারে বিরাট মাইনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। জাসিন্থা রাজি হন চাকরিটি করতে। তাঁকে প্রথমে দুবাই নিয়ে
যাওয়া হয়। তার পর সেখান থেকে সৌদি আরবের বন্দর শহর ইয়ানবুতে। আর তার পরই ১৪ মাসের ‘ক্রীতদাসী’ জীবন।

ঠিক কেমন ছিল সেই অভিশপ্ত জীবন! জানা গিয়েছে, দিনরাত টানা কাজ করে যেতে হতো তাঁকে। তিন-তিনটি প্রাসাদ সাফসুতরো রাখার কাজের পাশাপাশি দেখভাল করতে হতো ওই প্রাসাদগুলির মালিকের মা, তিন স্ত্রী ও বাচ্চাদের। হাড়ভাঙা খাটুনির মাঝে বিশ্রামের সময় ছিল খুবই কম। কখনই তাঁকে প্রাসাদের বাইরে যেতে দেওয়া হতো না। মালিকের বাচ্চারা পর্যন্ত তাঁকে দাসী হিসেবেই সম্বোধন করত।

পালাবার সম্ভাবনা যে খুব কম জানা ছিল। তবু জাসিন্থা কী ভাবে যেন পালাতে পেরেছিলেন। কিন্তু পুলিশের হাতেই অচিরেই ধরা পড়ে যেতে হয়। পুলিশ আবার তাঁকে পৌঁছে দেয় প্রাসাদে। তার পর শুরু হয় ভয়ঙ্কর মারধর। এমনকী, জল চাইলে সেটাও দেননি ওই প্রাসাদের মালিক। একটি পশুর মতোই আচরণ করা হতে থাকে তাঁর সঙ্গে।

গত নভেম্বরের সেই ঘটনার পরেই এক রকম আশা ছেড়ে দেন জাসিন্থা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর খবর পায় এ দেশের একটি অবাণিজ্যিক মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থা। তারাই অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে সৌদি আরবের ওই প্রাসাদের মালিকের সন্ধান পায়। তার পর দেশে ফিরিয়ে আনে ওই মহিলাকে। কর্ণাটকের বাসিন্দা জাসিন্থা ফিরে পান পরিবারের সান্নিধ্য।

জাসিন্থা চান, যে ব্যক্তি তাঁকে মিথ্যে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। তাঁর খোঁজ চলছে।
প্রসঙ্গত, মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলিতে মোটা মাইনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারত থেকে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে গিয়ে দাস বানিয়ে রাখার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও নানা ঘটনার কথা সামনে এসেছে।

আরো খবর »