নানা সমস্যায় জর্জরিত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্স…

Feature Image

মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বলঃ  প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের ৫০ শয্যার ভবনটি উদ্ধোধনের এক বছর পরও চালু না হওয়ায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র সেবা দানকারী হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গতানুগতিক ভাবেই বিঘিœত হচ্ছে। গত বছরের ৩০ জুলাই মহম্মদপুর আরএসকেএইচ ইনষ্টিটিশান মাঠে জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী জন সভায় যোগ দেওয়ার আগে নব-নির্মীত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের ৫০ শয্যার নতুন ভবনটি উদ্ধোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যানমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ শ্রী বীরেন শিকদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৮ সালের জুন মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরনের জন্য ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য ৪ ইউনিটের ৩ টি নতুন বাসভবন নির্মান, একটি নতুন দ্বিতল আউটডোর পেসেন্ট ডিপার্টমেন্ট বিল্ডিং, (উপিডি) নির্মান এবং পুরোনো হাসপাতার ভবন ও কোয়ার্টার গুলোর সংস্কার করা হয়। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিলেন ঢাকার এমআরএন জয়েন্ট ভেঞ্চার্র। কাজ সমাপ্তি হয় ২০১৪ সালের শেষের দিকে। ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করা হয় ২০১৬ সালে ৩০ জুলাই কিন্তু উদ্ধোধনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারন মানুষ। আবার বেড না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি সংকট, ওষুধ অপ্রতুল, চিকিৎসকদের কর্তব্যে অবহেলা, সেচ্ছাচারিতার কারনে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতির সুযোগ থাকলেও সেগুলোর সুবিধা পচ্ছেনা রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা করাতে হয় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত হওয়ার ফলে একদিকে যেমন এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বেসরকারী ডায়াগনষ্টিকের চলছে রমরমা বানিজ্য। ফলে রোগীদের গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্রথম শ্রেনীর ১৭ টি পদের মধ্যে কর্মরত পদের সংখ্যা ৪ জন। ৩য় শ্রেনীর ৭২ টি পদের মধ্যে কর্মরত ৫২ জন। ৪র্থ শ্রেনীর ১৯ টি পদের মধ্যে কর্মরত ০৮ জন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীর ৩৯ টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৮ জন। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৮ টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩ জন। জনবল কাঠামো অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেনীর মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৬১ জন। কর্মরত পদের সংখ্যা ৬৫। এবং মোট শুন্য পদের সংখ্যা ৯৪। ১ম শ্রেনির ১৭ টি পদের মধ্যে ১৩ টি পদ শুন্য থাকায় চিকিৎসা সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সরজমিনে দেখা গেছে, অবকাঠামো সুযোগ না থাকায় ৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালে বেড না পেয়ে বাধ্য হযে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্য সেবার পরিবর্তে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অন্যদিকে বেড সংকুলান না থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে পর্যন্ত ঠাঁই না পেয়ে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার কয়েকজন ষ্টাফ দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার কারনে হাসপাতাল কে তাদের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। তাদের আচরনে সাধারন রোগীরা অতিষ্ঠ। আর এদের কে প্রত্যক্ষ ভাবে সহযোগীতা করছে স্থানীয় স্বার্থন্বেষী একটি মহল।

ফলে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্তব্যে অবহেলা এখানে চরম আকার ধারন করেছে। গাইনি বিভাগে ডাক্তার আছেন কিন্তু সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে রোগীদের। এ ক্ষেত্রে রোগীদের উৎসাহিত করা হয় প্রায়ভেট ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য। হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররাই প্রায়ভেট ক্লিনিকে গিয়ে এসব রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অধিকাংশ সময় বহির্বিভাগে রোগীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে স্বয়ং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সেই ভবনের উদ্ধোধন করার এক বছর পরও কেন চালু হচ্ছেনা তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার শিকদার বলেন, আমরা ৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে বারংবার অবহিত করেও কোন সদুত্তর পাইনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সাংসদ ড. শ্রী বীরেন শিকদার বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সাথে আমার কথা হয়েছে। ভবনটি শীঘ্রই চালু করার ব্যাপারে তিনি আমাকে আস্বস্থ করেছেন।

আরো খবর »