গৌরনদীর জমিদার বাড়িতে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মন্দির

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গৌরনদী (বরিশাল) থেকে বিশ্বজিত সরকার বিপ্লব: ১৬৭ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে মাথা উঁচু করে জেলার গৌরনদী পৌর সদরের আশোকাঠী মহল্লার জমিদার মোহন লাল সাহার বাড়িতে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে তৎকালীন ভারতীয় উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ দুর্গা মন্দির। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই মহাধুমধামের মধ্যদিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও হাজারো ভক্তদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।

ইতোমধ্যে দুর্গা পূজার পুরো আয়োজন সম্পন্ন করেছেন প্রয়াত জমিদার মোহন লাল সাহার উত্তসূরীরা। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রং তুলির শেষ আচরে শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গার প্রকৃত রূপ। একইসাথে মন্দিরের বাহিরে চলছে সাজসজ্জার কাজ। স্থানীয়রা জানান, এতদাঞ্চলের মধ্যে এ দুর্গা মন্দিরটি সর্ববৃহৎ হওয়ায় প্রতিবছরই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মহাধুমধামের সাথে এখানে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

জমিদার বাড়ির উত্তরসূরীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ১৮৫০ সালে জমিদার প্রসন্ন কুমার সাহার বাবা খ্যাতিমান জমিদার মোহন লাল সাহার উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মান করা হয়। কারুকার্জ খচিত ঐতিহাসিক এ মন্দিরের ছাঁদের ওপরের চারিপাশের সিংহ মূর্তিগুলো আজও যেন কালের স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে। জমিদার মোহন লাল সাহার পুত্র প্রয়াত মানিক লাল সাহার স্ত্রী ও স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী অরুনা সাহা জানান, তৎকালীন সময়ে ভারতীয় উপ-মহাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মন্দির হিসেবে এ মন্দিরটিতে ভক্ত দর্শনার্থীরা পূজা অর্চনা করতে ভীড় করতেন। প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমার এ মন্দিরটিতে এখনও পূর্বের ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে। ৩০ গজ দৈর্ঘ্য ও ২০ গজ প্রস্থ মন্দিরটিতে রয়েছে ৪৫টি স্তম্ভ। জমিদার মোহন লাল সাহার নাতী প্রভাষক রাজা রাম সাহা জানান, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার ও তাদের স্থানীয় সহযোগী রাজাকাররা তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করেছিলো। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলো পাইক পেয়াদাদের ঘরবাড়ি। গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো দূর্গা মন্দিরের অসংখ্য কারুকার্জ খচিত অলংকরণ।

গৌরনদী উপজেলার সদর থেকে প্রায় এক হাজার ফুট দূরত্বে আড়িয়াল খাঁ নদীর প্রশাখা গৌরনদী-মীরেরহাট নদীর তীরে আশোকাঠী মহল্লায় জমিদার মোহন লাল সাহার বাড়ি। বাড়ির সামনেই রয়েছে সান বাঁধানো সু-বিশাল দীঘি। জমিদার থাকতেন প্রসন্ন ভবনে। বাড়ির প্রবেশ দ্বারে প্রাচীনতম সু-বৃহৎ দুর্গা মন্দিরে আজও ভক্তরা পূজা অর্চনা করে আসছেন।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, একসময় জমিদার বাড়িতে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের জন্য প্রায় বারো মাসই যাত্রা, জারি, সারী ও পালা গানের আয়োজন করা হতো। ওইসময় হাজার-হাজার মানুষের পদচারনায় মুখরিত ছিলো এ বাড়িটি। প্রতাবশালী জমিদার মোহন লাল সাহার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের মধ্যে অন্যতম স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, বাড়ির পাশ্ববর্তী পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৩৫ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ বিদ্যাপিঠের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা মেধা তালিকায় তৎকালীন যশোর শিক্ষা বোর্ডে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমানে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। বর্তমান মহাজোট সরকারের সময় জমিদারের প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজের রূপান্তরিত হয়েছে। গৌরনদীবাসী জমিদার মোহন লাল সাহার প্রতিষ্ঠিত পালরদী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সরকারী করণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »