রাজশাহীতে বন্যায় ২ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে

Feature Image

রাজশাহী থেকে ওবায়দুল ইসলাম রবিঃ  রাজশাহী জেলায় নয়টি উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ২ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষকই ঋন নিয়ে ও গবাদি পশু বিক্রয় করে আমন ধান রোপন করেছিলেন। বন্যার পানিতে ধানের সাথে ভাগ্যও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর সুত্রে এ বছর নয়টি উপজেলা ও নগরীর দুটি থানায় মোট ২৫ জাতের ধান রোপন করেছিলেন কৃষকরা। কিন্ত রোপনের কিছুদিন পরই কয়েকটি উপজেলায় বন্যার পানিতে ধান নষ্ট হয়েছে। তবে কৃষি অফিস থেকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানের বিকল্প হিসেবে কি চাষ করা যায় তার পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পবা, বাগমারা, তানোর, বাঘাসহ আরো কয়েকটি উপজেলায়। এবার গোদাগাড়ী উপজেলায় ধান কম থাকায় ক্ষতিও কম হয়েছে। তবে সেখানে ধানের পরিবর্তে পেয়ারা চাষ বেড়েছে বলে জানাযায়। পবা উপজেলার দারুসা এলাকার কয়েকটি গ্রামের মাঠের অনেক ধান এখনো পানিতে নিচে। দীর্ঘ দিন ধরে এসব ধান পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে রোপা পচে গেছে। ধান পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ওইসব আমন ধানের আর আশা নেই। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করেছিলেন। আর ধারের টাকা শোধ করার কথা ছিল ধান উঠলে তা বিক্রি করে। কেউ আবার সমিতি থেকে ঋন নিয়েও ধান চাষ করেছিলেন।
ওই এলাকার আব্দুল্লাহ নামের এক কৃষক বলেন, বেশির ভাগ জমির ধান বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। আরেক কৃষক বলেন, তার নিজের জমি তেমন নেই। বর্গা চাষ করে সংসার চালায়। এবার মোট তিন বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছিলাম।

 

এরমধ্যে বেশিরভাগ ধান ডুবে গেছে। রাজশাহী কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ৯টি উপজেলায় ২ হাজার ২৭৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে জরিপ শেষে বিষয়টি জানা যাবে বলে জানানো হয়। এবার ৯ টি উপজেলা রাজশাহী মহানগরী দুটি থানা এলাকায় মোট আমন ধান রোপন কার হয়েছে ৭১ হাজার ৩১৪ হেক্টর জমিতে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টের জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। সেগুলো জমিতে নতুন করে কি ফসল চাষ করা যায় সে পরামর্শ কৃষকদের দেওয়া হবে।

আরো খবর »