লালমনিরহাটে বহুল আলোচিত সংখ্যালঘু আনন্দ  হত্যা মামলাটি অবশেষে সিআইডিতে যাচ্ছে

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

লালমনিরহাট থেকে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না: অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের সেই বহুল আলোচিত সংখ্যালঘু আনন্দ মোহন হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মামলা দায়ের হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে মামলাটি সিআইডিতে প্রেরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে সংশ্লিষ্ট লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের বান্দেরকুড়া গ্রামের মৃত দক্ষিনা বর্ম্মনের পুত্র আনন্দ মোহন বর্ম্মন (৪৭) তার পৈত্রিক ভিটায় একাকি বসবাস করতেন। এই সুযোগে একই ইউনিয়নের টেপাটারি গ্রামের আঃ মতিনের পুত্র সেলিম হোসেন গং আনন্দ মোহনের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে যাওয়ার জন্য প্রায় সময় তাকে হুমকি প্রদান করত। এতে আনন্দ মোহন তাদের কথায় রাজি না হলে কৌশলে তারা আনন্দকে তাদের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত করে। ব্যবসার এক পর্যায়ে কয়েক মাসের লভ্যাংশের টাকা আনন্দকে দিয়ে তার মনে বিশ^াস স্থাপন করে। পরবর্তীতে তারা তার বেশকিছু সুপারি গাছ ক্রয় করে নিয়ে যায়। এরপর তাদের ব্যবসার লভ্যাংশের টাকা শিয়ালখোয়া বাজারে দেয়া হবে মর্মে আনন্দকে জানায়। কিন্তু সেখানে তারা টাকা না দিয়ে আনন্দকে তাদের বাড়িতে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে সময় ক্ষেপন করে গভীর রাতে আনন্দকে লাঠিসোটা দিয়ে বেধরক মারপিট শুরু করলে সে আতœরক্ষার জন্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্ত হত্যাকারীরা তাকে পুনরায় আটক করে তার পরনের কাপড় খুলে তাকে দিগম্বর করে বেধম মারপিট করলে তার মৃত্যু হলে অবস্থা বেগতিক দেখে হত্যাকারীরা হত্যাকান্ডটি আতœহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য মৃতঃ জয়নালের স্ত্রী বুলবুলি বেওয়ার গোয়াল ঘরে আনন্দ মোহনের গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

গত ২০/৫/১৭ ইং তারিখে তাকে হত্যা করা হলেও পুলিশ পরদিন অর্থাৎ ২১ মে লাশ উদ্ধারপুর্বক ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট মর্গে প্রেরন করে এবং নিহতের ভগ্নিপতি সুভাস বর্ম্মন থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে নিহতের আরেক ভগ্নিপতি বুলবুল চৌধুরী বাদি হয়ে গত ৫/৬/১৭ ইং তারিখে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন। কিন্ত সেই এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে গন্য করতে পুলিশ টালবাহানা করেন। পুলিশ বলেছেন, ময়না তদন্ত রির্পোট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত হত্যা মামলার এজাহারটি রেকর্ড করা সম্ভব হবে না। পরবর্তীতে থানা পুলিশ বাদিকে ডেকে নিয়ে গত ২৪/৮/১৭ ইং তারিখে নতুন করে এজাহার গ্রহন পুর্বক হত্যা মামলাটি রুজু করেন।

এজাহারভুক্ত আসামীরা হল ঃ চলবলা ইউনিয়নের টেপাটারি গ্রামের মৃতঃ মফিজ উদ্দিনের পুত্র আঃ মতিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মজিবর রহমান, মতিনের পুত্র সেলিম হোসেন, মজিবরের পুত্র জহুরুল ইসলাম ও বুলবুলি বেওয়া। যার মামলা নং ২৮ তাং ২৪/৮/১৭ইং, ধারা ৩০২/৩৪। বর্তমানে এরা সকলেই পলাতক রয়েছে। মামলাটি গ্রহনে দীর্ঘ বিলম্বের কারনে আসামীরা নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে বাদি সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন।

মামলাটি তদন্ত করছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং তদন্ত সুপারভেশন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি, ফিরে এসে আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করব।

বুধবার (২৭সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন বলেন, মামলাটি একটু জটিল হওয়ায় কোন কুল কিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য মামলাটি সিআইডিতে প্রেরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »