ডিপজল কি আবার রুপালি পর্দায় সরব হবেন?

Feature Image

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল এখন ভালো আছেন। গত সপ্তাহে হার্টে রিং পরানোর পর তার অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। চিকিৎসক তাকে কমপক্ষে দেড় মাস বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। এরপর ডিপজল কি আবার রুপালি পর্দায় সরব হবেন? এমন প্রশ্নের আপাতত তার উত্তর ‘না’।

এই শক্তিমান অভিনেতার বরাত দিয়ে এমনটি জানালেন অভিনেতা-নির্মাতা নাদির খান। ২০ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে নাদির খান প্রযোজিত ডিপজল অভিনীত তারকাবহুল পারিবারিক-অ্যাকশন ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। নাদির খান জানান, ছবিতে দুলাভাই চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন ডিপজল। দর্শক তার মর্মস্পর্শী অভিনয় দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে কিনা জানি না। ডিপজল এই নির্মাতাকে জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘ ২৭ বছর চলচ্চিত্রে নির্মাতা, নায়ক, খলনায়ক সব কিছুই করলাম, এখন বেশ কিছু দিন বিশ্রাম নিতে চাই। এমনও হতে পারে ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ হবে আমার জীবনের মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি। ’

ডিপজলের এমন ঘোষণায় তার দর্শক-ভক্তরা নিঃসন্দেহে বেদনার দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন। খলচরিত্রে একসময় নেতিবাচক অভিনয় করে সমালোচিত হলেও ২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির মাধ্যমে নির্মাতা ও অভিনেতা হিসেবে দর্শকের হূদয়ে ঝড় তোলেন ডিপজল। এরপর একে একে তার নির্মিত ও অভিনীত চাচ্চু, পিতার আসন, দাদীমা, মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি ছবিগুলোতে তার দুর্দান্ত অভিনয়ের কথা কখনো ভুলতে পারবে না দর্শক। এসব ছবির মাধ্যমে বাস্তবেও খলনায়ক থেকে নায়কে পরিণত হয়েছেন ডিপজল। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন তার। ১৯৮৯ সালে আকবরের ‘টাকার পাহাড়’ ছবির নায়ক হয়ে রুপালি পর্দায় অভিনয়ে আসেন তিনি। ডিপজলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা মানে বাদশা ভাই সান পিকচার্সের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। আকবরেরও এটি পরিচালিত প্রথম ছবি।

ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। ডিপজল ১৯৮৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ২৩ বছর তুমুল জনপ্রিয়তায় একাধারে নির্মাণ ও অভিনয় করে যান। চলতি বছর ডিপজল আবার চলচ্চিত্র নির্মাণ ও অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। পয়লা জানুয়ারি থেকে ছটকু আহমেদকে দিয়ে ‘এক কোটি টাকা’ ছবিটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে তিনি অভিনয়ও করেন। ছবিটির কাজ এখনো শেষ হয়নি।

এদিকে ২০ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে ডিপজল অভিনীত বহুল আলোচিত ছবি ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মনতাজুর রহমান আকবর। ২৭ সেপ্টেম্বর ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে এ ছবির ট্রেইলার। এতে ডিপজলকে প্রতিবাদী ও অ্যাকশন অবতারে দেখা গেছে। প্রায় ৫ মিনিটের ট্রেইলারে ডিপজলের অ্যাকশন ও রোমান্স ছিল জমজমাট। ‘এক কোটি টাকা’ ছবির নায়কও ডিপজল।

এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ডিপজলকে নিয়ে মজা করে একটি সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘কোটি টাকার কাবিনের’ পরে এখন আপনার আপ কামিং মুভির নাম ‘এক কোটি টাকা’ কেন? ডিপজলের সহজ-সরল উত্তর ছিল—‘কারণ, আমি কোটি টাকার নায়ক। ’ তার কাছে আরও জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশে সাধারণত নায়কদের বয়স হলে প্রায় তারা ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে। আপনি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিলেন থেকে হিরো, কেন?

ডিপজল হেসে বলেন, ‘হিরোরা বয়স বাড়লে যদি ভিলেন হতে পারে, তাহলে ভিলেনদের বয়স বাড়লে হিরো হতে সমস্যা কোথায়?’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয়—ইদানীং আপনার মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো দুঃখের। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মা-বোনরা।

এর জবাবে কপালে চিন্তার ভাঁজ টেনে ডিপজল বলেন, ‘আমার মুভি দেখে মা-বোনরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাবেন কেন?’ তাকে জানানো হয়, কারণ হলো, আপনার দুঃখের ছবি দেখে তাদের চোখে জল চলে আসে। আর সেই জল তাদের মেকআপ নষ্ট করে ফেলে। এর জবাবে ডিপজল বলেন, ‘তো, আমি এখন কী করব?’

কেন সেসব দর্শককে ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু টাকা দেবেন। হাসতে হাসতে ডিপজল বলেন, ‘সাক্ষাত্কারের নাম কইরা আমার সান্ডে-মান্ডে ক্লোজ করার চেষ্টা করছেন, তাই না? হা… হা… হা…।

আরো খবর »