অ্যাথেনা : নিরব, অদৃশ্যমান এবং প্রাণঘাতী এক অস্ত্র!

Feature Image

এটা নিরব, অদৃশ্যমান এবং প্রাণঘাতী। মহাশক্তিশালী অ্যাথেনা লেজার উইপন সেকেন্ডের মধ্যে শত্রু বধে সক্ষম।
ইতিমধ্যে লেজার অস্ত্রটি ৫টি অনুপ্রবেশকারী ড্রোনকে ধ্বংস করেছে।

এখন থেকে লেজার অস্ত্র আর কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়। আমেরিকার অস্ত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন এবং সেনাবাহিনীর যৌথ প্রয়াসে লেজার অস্ত্র বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে ইউএস মিলিটারি যুদ্ধে লেজার অস্ত্র ব্যবহার করবে। হয়তো এগুলো কোনো যুদ্ধযানের ওপর বসানো থাকবে। এটার কাছে শত্রুদের যেকোনো অস্ত্র সেই আদিকালের তীর-ধনুকের মতোই মনে হবে।

অ্যাথেনা হলো অ্যাডভান্সড টেস্ট হাই এনার্জি অ্যাসেট। এটা আমেরিকার আধুনিক ও ভবিস্যতে অস্ত্রের ভাণ্ডারের উল্লেখযোগ্য উপাদান। সম্প্রতি এটার পরীক্ষা চালানো হয়েছে ইউএস আর্মির স্পেন অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ড এর সহায়তায়।
নিউ মেক্সিকোর আর্মির হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জ অংশে লেজার তার জাদু দেখিয়েছে। একটি লেজারের ৩০ কিলোওয়াট অস্ত্রটি ৫টি ড্রোনকে চোখের পলকে ভূপাতিত করে। ড্রোনগুলো কিন্তু খেলনার সাইজের ছিল না। একেকটার পাখা ১১ ফুট দীর্ঘ।

যুদ্ধে এ ধরনের অস্ত্রের একটি বিশেষ গুণ রয়েছে। এতে বুলেটের কোনো হিসেব নেই। যতক্ষণ পাওয়ার আছে ততক্ষণ এটি প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী লেজার ছুড়ে দেবে। কাজেই এর সীমাহীন ম্যাগজিন থাকতে পারে। আরেকটি সুবিধা হলো এর গতি। আলোর গতিতে ছোটে এর রশ্মি। এটি নিরব, অদৃশ্যমান এবং প্রাণঘাতী তো বটেই। শত্রুদের চমকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

৩০ কিলোওয়াট শক্তিতে অ্যাথেনা ড্রোন, যুদ্ধযান, রকেট ইত্যাদি ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে একটা বিষয় এখনও ঠিকঠাক করা হয়নি। অস্ত্রটাকে আরো হালকা, শক্তিশালী এবং সহজে বহনযোগ্য করতে হবে। দ্রুতগতির চলমান বস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম লেজার। পরীক্ষা ড্রোন ধ্বংসের ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে এটি। আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাথেনাকে বলা হচ্ছে ফাইবার লেজার। এখানে একাধিক লেজার বিম রয়েছে। যা আলাদাভাবে এবং সমন্বয় করে আরো শক্তিশালী লেজার বিম সৃষ্টি করতে পারে।

লেজার অস্ত্র বানানোর দায়িত্ব নিয়েছে লকহিড মার্টিন। তারা এই প্রযুক্তি নিয়ে ৪ যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি অ্যাথেনার মাধ্যমে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে। সূত্র : ফক্স নিউজ

আরো খবর »