রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান চুমকির

Feature Image

ঢাকা : মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অসহায় নির্যাতিত ও রোহিঙ্গা শরনার্থী শিশুদের সহায়তায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বিশ্ব শিশু দিবস- ২০১৭ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। বিশ্ব শিশু দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশু পেলে অধিকার, খুলবে নতুন বিশ্বদ্বার’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুরা এই বয়সে যে নিষ্ঠুরতা দেখেছে এবং যে মানবেতর জীবন যাপন করছে তা তাদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক বিরাট প্রতিবন্ধকতা। তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের এ বিপর্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব শিশুকে সহায়তায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তা সত্বেও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবেও অনেক শিশুর অধিকার লংঘিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে পিতা বা মা একাধিক বিয়ে করে এবং তাদের সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখেন না। সেই সুযোগে অপরাধীরা তাদের ব্যবহার করে। তিনি শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, ইউনিসেফ বাংলাদেশের পরিকল্পনা শাখার প্রধান কার্লোস একাস্তা, শিশু একাডেমির পরিচালক শিশু সাহিত্যিক আনজীর লিটন এবং শিশু প্রতিনিধি কাজী নুজহাত তাবাসসুম সুবাহ এবং খায়রুল তাসনিম। শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিশু মহিমা স্বাগতা অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন।

সচিব নাছিমা বেগম শিশুদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে তাদের বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার ও জানানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রতিটি শিশুর স্বপ্নের জগত ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিশু বান্ধব সংস্কৃতিক, সামাজিক ও বিজ্ঞান মনষ্ক নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিশুর জন্য উপযুক্ত সমাজ গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।
আলোচনা শেষে শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের অংশগ্রহণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের সাথে আমেরিকা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, তুরস্ক, ইয়েমেন ও শ্রীলঙ্কার ১৮ জন শিশু সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়।

বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে বংলাদেশ শিশু একাডেমি এবছর ভিন্ন ধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এর মধ্যে রয়েছে কারাগারের ভেতরে বেড়ে ওঠা শিশুদের চিত্রাংকন, পথশিশুদের জন্য আয়োজন করে বিশেষ বক্তৃতা এবং সব শিশুদের জন্য সৃজন কর্ম প্রতিযোগিতা। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন। শিশু সাহিত্যিক রফিকুল হক শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ১৪২০ বঙ্গাব্দ এবং ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ১৪২১ বঙ্গাব্দ অর্জন করেন। কবি আসলাম সানি রচিত ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বইয়ের জন্য তাকে অগ্রনী ব্যাংক বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশু সাহিত্য পুরস্কার ১৪১৬ বঙ্গাব্দ প্রদান করা হয়।

আরো খবর »