জেলেদের সাথে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ভারতীয় জেলেদের আগ্রাসন বন্দের দাবী

Feature Image

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) থেকে  মো.ইমরান: ইলিশের প্রজনন মৌসুম পাল্টে গেলেও পাল্টায়নি মৎস্য অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার সময়। জেলেদের সাথে সমন্বয় না করে আরোপ করা হয়েছে অবরোধ। তাছাড়া এ সময়ে মাছ ধরা বন্ধে নেই যথাযথ প্রনোদনা। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে কঠোর নজরদারি না থাকা নিয়ে জেলেদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ। ফলে এ অবরোধের প্রকৃত সুফল পাওয়া নিয়ে শংকা রয়েছে বলে দাবি উপকূলীয় এলাকার জেলে এবং সংশ্লিস্ট ব্যবসায়ীদের।

উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়ার অধিকাংশ মানুষ গভীর সমুদ্রে গিয়ে ইলিশসহ সামুদ্রিক নানা প্রজাতির মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরোক্ষভাবে এ পেশার সাথে জড়িয়ে রয়েছে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা। এছাড়া এ পেশা থেকে উপার্জন হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে ধরা পড়েনি ইলিশ।

মৌসুমের শেষ ভাগে এসে জেলেদের জালে ধরা দেয় ইলিশ। আকারে বড় না হলেও প্রছুর মাছ ধরা পড়ায় হাসি ছিল জেলেসহ ব্যবসায়ীদের মুখে। কিন্তু সে হাসি ¤øান হয়ে গেছে ইলিশ প্রজনন মৌসুমের অবরোধে। মা ইলিশের সঠিক ও নিরাপদ প্রজননের জন্য ১ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে জেলেরা শিকার করতে পারবেন না ইলিশ। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারের নেয়া পদক্ষেপে প্রতি বছরেই বৃদ্ধি পাচ্ছে জাতীয় সম্পদ রুপালী ইলিশের উৎপাদন। ফলে এ পদক্ষেপকে সমর্থন করে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকছে জেলেরা।

জেলে আকবর জানান, যেসব ইলিশ জালে ধরা পড়ছে তা আকারে ছোট এবং ডিমে আসেনি পরিপক্কতা। এখনো এসব ইলিম ডিম ছাড়ার জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। একই কথা জানিয়ে মাঝি গনি মিয়া বলেন, মৎস্য অবরোধের সুফল আমরাই ভোগ করছি। বিগত বছর থেকে প্রচুর মাছ ধরা পড়েছে। এবছর মৌসুমের শেষে এসে ইলিশ ধরা পড়লেও পরিমানে ছিল বিগত বছরের চেয়ে বেশি। তিনি আরো বলেন, আমরা এসময় মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও ভারতীয় জেলেরা মাছ ধরে নিয়ে যায়। তাদের মাছ ধরা বন্ধে সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। জেলে সবুর বলেন, অবরোধের নির্ধারিত সময় কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন জানানো উচিৎ।
আলীপুর-কুয়াকাটা ট্রলার মালিক-মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান অনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, সরকারী ও বেসরকারীভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির করা হলেও জেলেদের সংখ্যার তুলনায় তা খুবই কম। সকল জেলেদের প্রনোদনার আওতায় আনা, অবরোধ শুরুর দিনে সহায়তার চাল বিতরন এবং পরিমান বাড়ানো হলে জেলেদের অবরোধকালীন যে সমস্যা থাকে তা থেকে তারা উত্তরন পেত।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.আবুল হাসনাত সাংবাদিকদের বলেন, সহায়তার পরিমান বাড়ানোসহ অবরোধকালীন সময়ে সকল জেলেদের প্রনোদনার আওতায় আনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরো খবর »