রাখাইনে অবরুদ্ধ গ্রামগুলো, খাবারের সন্ধানে বেরোলেই নিখোঁজ

Feature Image

সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতার মুখে রাখাইনে অবরুদ্ধ হয়ে আছে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো। ঘর থেকে খাবারের সন্ধানে বেরোলেই নিখোঁজ হচ্ছেন নিরীহ রোহিঙ্গারা।
আর তাই ক্ষুধার জ্বালায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে।

জানা গেছে, সেনারা তাদের গ্রাম অবরুদ্ধ করে রাখায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের মজুদ থাকা খাবার শেষ হয়ে যায়। তারা জানতে পারেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ ও খাবার দেয়া হচ্ছে। তাই খাবারের আশায় টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসছেন তারা।

সোমবার বিকালে হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছেন। এছাড়া টেকনাফের নাইট্যংপাড়া ও শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়েও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ রাখাইনের বুচিডং থানা এলাকার। এদিন বিকালে উলুবনিয়া সীমান্তে নাফ নদীর কাছে বিজিবি টহল দলের সদস্যরা পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জড়ো করে রাখেন।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জুমাদ্দার উলুবনিয়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা আসার সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করলেও সংখ্যায় কত হবে, তা জানাতে পারেননি।

মূলত রোহিঙ্গা গ্রামগুলোকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সেনারা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গ্রাম থেকে তারা কোথাও বের হতে পারছেন না। কাজকর্মে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের গ্রামে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। আবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপ করে তারা জানতে পারেন, এ পারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং খাদ্যাভাবের কারণে তারা পালিয়ে আসছেন।

রাখাইনের মংডু দাবাংসা এলাকার সত্তরোর্ধ্ব লায়লা খাতুন জানান, এক সপ্তাহ আগে রাতের অন্ধকারে গ্রামের কয়েকশ’ লোক একসঙ্গে পালিয়ে হাঁটা শুরু করেন। তারও এক সপ্তাহ আগ থেকে গ্রাম অবরুদ্ধ করে রেখেছিল সেনা ও বিজিপি সদস্যরা। যারা গ্রাম থেকে বাইরে যাচ্ছিল, তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই রাতের আঁধারে গ্রাম ছেড়ে পালান তারা।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরুর পর পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন সাত লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে এ সংখ্যা।

 

আরো খবর »