‘প্রধান বিচারপ‌তি‌কে ছু‌টি নি‌তে বাধ্য করা নোংরা দৃষ্টান্ত’

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: উচ্চ আদালতও স্বৈরাচারী সরকারের আক্রমণের শিকার বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নজিরবিহীন ছুটি নিতে বাধ্য করে সরকার নোংরা কাজ করেছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধান বিচারপতির বর্তমান অবস্থান জাতি জানতে চায় বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সরকার অস্তিত্ব সংকটে বেশামাল হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট ও ভোটারবিহীন এক নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি কয়েক মিনিটের মধ্যে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় স্বৈরাশাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক বিশ্বাস লালন করার জন্য অন্য কোনো দল গঠনের অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। এমনকি বিচার বিভাগকে প্রশাসনের অধীন করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ ও বরখাস্তের ক্ষমতা ছিল প্রশাসনের প্রধান রাষ্ট্রপতির হাতে। আজ আবার সেই রাজনৈতিক দলটিই কৌশলে ক্ষমতা দখল করে সুকৌশলে বাকশাল কায়েমের অপচেষ্টায় করছে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রহসনের মাধ্যমে অনুগত বিরোধী দল সাজিয়ে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় সরকার কায়েম করেছে আওয়ামী লীগ। প্রশাসন ও নিম্ন আদালতকে কুক্ষিগত করেছে। অবাধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্থ করছে। গুম, খুন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী মতের জনগণের জন্য স্বাভাবিক রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো অসম্ভব করে তুলেছে।

‘এই পরিস্থিতিতে সুবিচার পাওয়ার সর্বশেষ ভরসাস্থল উচ্চ আদালতও আজ স্বৈরাচারী সরকারের আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সর্বসম্মত রায় দেয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ আদালত এবং বিচারপতিদের সরকার প্রধান থেকে সরকারের মন্ত্রী, সরকারি দল ও জোটের নেতাকর্মীরা অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও কুৎসিত ভাষায় সমালোচনা করছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় পছন্দ না হলে তা রিভিউ করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকার দেশের প্রবীন বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে ছুটি নিতে বাধ্য করার নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের আইনজীবীদের পাশাপাশি সচেতন জনগণকে এর প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, নাজমুল হক নান্নু ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শরিফুল আলম ও আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »