প্রতিবন্ধি তরুণী ধর্ষণ অতঃপর অন্তঃসত্ত্বা: প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

টাঙ্গাইল থেকে আরিফ উর রহমান টগর: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঢেলি করটিয়ায় প্রতিবন্ধি তরুণী ধর্ষণ অতঃপর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় জড়িত ৩জন স্বত্তেও মামলার আসামী ১জন করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন আসামী ও কারারুদ্ধ মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুর স্ত্রী মোছাঃ রুবিনা।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, চলতি বছরের ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি তারিখের মধ্যে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার শিকার হন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢেলি করটিয়াস্থ সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এর বাসার ভাড়াটিয়া ও মির্জাপুর উপজেলার কাটরা গ্রামের মোঃ লাল মিয়া ও আলো বেগমের মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধি এবং মৃগি রোগে আক্রান্ত তরুণী আঁখি আক্তার (১৭)। এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। মানসিক প্রতিবন্ধি হলেও ধর্ষিতা ঘটনার বিবরণ ও জড়িতদের নাম প্রকাশ করতে পারেন। এর ফলে ধর্ষিতার দেয়া ভাষ্যে প্রকাশ পায় ঘটনায় জড়িত বাসার মালিক ও সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, বাসার ভাড়াটিয়া ও কারখানার মালিক সাহাবুদ্দিন ও কারখানার দর্জি মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুর নাম। জড়িতদের এ নামের উপর টাঙ্গাইল মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে কারখানার মালিক সাহাবুদ্দিন ও কারখানার দর্জি মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুকে আটক করে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ। তবে কারখানার মালিক সাহাবুদ্দিনকে ছেড়ে দিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর কারখানার দর্জি মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুকে একমাত্র আসামী করে মামলা দায়ের ও জেলহাজতে পাঠানো হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধি এবং মৃগি রোগে আক্রান্ত তরুণী আখি আক্তার (১৭) এর ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ জবানবন্দিতেও ধর্ষিতা তিনজনের নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি প্রদান করে বলে জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে বিবাদী পক্ষের আইনজীবি মুকুল আক্তার বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসুম এর আদালতে ধর্ষণের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধি এবং মৃগি রোগে আক্রান্ত তরুণী আঁখি আক্তার (১৭) এর ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এ জবানবন্দিতেও ধর্ষিতা বাসার মালিক ও সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও কারখানার দর্জি মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুর নাম উল্লেখ করাসহ আরো কয়েকজন জড়িত বলে জবানবন্দি প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জেসমিন জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার মানসিক প্রতিবন্ধি এবং মৃগি রোগে আক্রান্ত তরুণী আঁখি আক্তার (১৭) মামলার প্রথমে শুধু কারখানার দর্জি মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুর নাম উল্লেখ করায় একজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসুম এর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ধর্ষিতা বাসার মালিক ও সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও কারখানার দর্জি মোঃ হামিদ মিয়া ওরফে হামদুর নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি দেন। এ জবানবন্দির ভিত্তিতে বাসার মালিক ও সাবেক সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। এসময় তিনি আরো বলেন, আব্দুর রহমান পলাতক থাকায় তাকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »