নীলফামারীতে হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র বাশ গবেষনা ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাক: নীলফামারীতে হতে যাচ্ছে দেশের এক মাত্র বাশ গবেষনা ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে গবেষনা ও প্রশিক্ষন কার্যক্রম। জেলার ডোমার উপজেলায় বনবিভাগের ২ একর জমির উপর বাংলাদেশ বন গবেষনা ইনষ্টিটিউট এ কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছেন। এ কেন্দ্রটি স্থাপিত হলে উদ্দ্যেক্তা, বাশ ব্যাবসায়ী, বাশ চাষী, উৎপাদক তথা বাশ চাষের সাথে সম্পৃক্ত ব্যাক্তিরা প্রশিক্ষন পাবেন যা থেকে তারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। যার লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে নীলফামারী তথা উত্তরবঙ্গের ব্যাপক আর্থ সামাজিক উন্নয়ন।

জেলার ডোমার উপজেলা সদর হতে ১৮ কিলোমিটার দুরে এক প্রত্যন্ত পল্লীতে বাংলাদেশ ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের ২ কিলোমিটারের মধ্যে গোমনাতী চৌরঙ্গী নামক স্থানে এ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেন্দ্র স্থাপনে শুরুতে এ স্থান নির্ধারনকে ঘিরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে উপজেলা সদরে যেখানে বন বিভাগের শত শত একর পরিত্যাক্ত জমি রয়েছে সেখানে কেন্দ্র স্থাপন না করে অত দুরে কেন স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটি ঐ স্থানে স্থাপিত হলে এর তেমন কোন প্রভাব পড়বে না বলে এলাকাবাসী মনে করছে। কেননা এখানে রয়েছে আইন শৃংখলা, নিরাপত্তা, আবাসন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যাবস্থার অপর্যাপ্ততা। এ কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন স্থানের গবেষক, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষনার্থীগন আসা যাওয়া করবেন। কিন্তু ঐ এলাকায় যাতায়াতের এক মাত্র মাধ্যেম হচ্ছে অটোভ্যান।

তাছাড়া থাকা খাওয়ার কোন ব্যাবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়বেন এখানে আসা লোকজন। গবেষক, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষনার্থীদের এ সকল অসুবিধা মাড়িয়ে আসতে হবে এ কেন্দ্রে। এক পর্যায়ে সব ধরনের জনবল সংকটে পড়ে ব্যার্থতায় পর্যবসিত হবে কেন্দ্র। এমনকি নানা সংকটে পড়ে এক পর্যায়ে কার্যকারিতা হারাবে কেন্দ্রটি। ফলে এর কাংখিত লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য হতে বঞ্চিত হবে দেশ তথা দেশবাসী। এ ছাড়া বাংলাদেশ ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ কেন্দ্রে দেশ বিদেশের গবেষক ও প্রশিক্ষকগন আসা যাওয়া করবেন। দুরবর্তী স্থানে হওয়ায় তারা সমস্যা মনে করে দ্বিতীয়বার আর এ পথে পা বাড়াবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ কেন্দ্রটি যেখানে স্থাপিত হতে যাচ্ছে তার পাশেই রয়েছে একটি সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্প। এ এলাকায় নুন্যতম নাগরিক সুযোগ সুবিধা না থাকার দরুন এর বাসিন্দারা আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক একজন ৪র্থ গ্রেডের কর্মকর্তা ও তার অধীনে ৪ জন গবেষক, ৩ জন সহকারী গবেষক সহ বিভিন্ন স্তরের ২৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী থাকবেন।

জেলা ও উপজেলা সদর হতে দুরবর্তী এলাকায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার নিরাপত্তা ও তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়টি চিন্তা ভাবনা করবেন। যার ফলে এক পর্যায়ে তারা দ্রুত বদলীর চিন্তা ভাবনা করবেন। ফলে কেন্দ্রটি হতে আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »