মঠবাড়িয়ায় ঐতিহাসিক সূর্য্যমণি গণহত্যা দিবস শুক্রবার

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মঠবাড়িয়া থেকে এস.এম. আকাশ: মঠবাড়িয়ার সূর্য্যমণি গণহত্যা দিবস শুক্রবার (৬ অক্টোবর)। ১৯৭১-এ মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে ওই দিন ভোর রাতে উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের সংখ্যালঘূ অধ্যাষিত বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৫ হিন্দু বাঙালীকে এক দড়িতে বেঁধে স্থানীয় রাজাকার বাহিনী  নির্বিচারে গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করে। সূর্য্যমণি গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, ২৫ শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শোকযাত্রা করে সূর্য্যমণি বেড়িবাঁধে (বর্তমান সøুইজগেট) শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে স্বরণ সভার আয়োজন করেছেন।

ওই দিন যাঁরা শহীদ হয়েছিলেন তাঁরা হলেন, জিতেন্দ্র নাথ মিত্র, শৈলেন মিত্র, বিনোদ বিহারী, ফনী ভূষন মিত্র, ঝন্টু মিত্র, নগেন হালদার, অমল মিত্র, সুধাংশ হালদার, বিরাংশু হালদার, মধুসুদন হালদার, প্রিয়নাথ হালদার, সীতানাথ হাওলাদার, অন্নদা হাওলাদার, অনিল হাওলাদার, হিমাংশু মাঝি, জিতেন মাঝি, সুধীর মাষ্টার, অমেলেন্দু হাওলাদার, অচীন মিত্র, অরুণ মিত্র, নিরোধ পাইক ও কমল মন্ডল।

শহীদ পরিবার সূত্রে জানাগেছে, ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর ভোর রাতে ৫০/৬০ জনের একটি রাজাকার বাহিনীর দল গ্রামে হানা দিয়ে ব্যপক ধরপাকড় ও লুটপাট করে হিন্দু অধ্যুষিত আঙ্গুলকাটা গ্রামের মিস্ত্রী বাড়ি, মাঝি বাড়ি, হালদার বাড়ি, পাইক বাড়ি, মন্ডল বাড়ি, থেকে ৩৭ জন হিন্দুদের ধরে নিয়ে যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে তাদের ধরে এনে তাঁদের মধ্যে ৭ জনকে রাতভর থানায় আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরের দিন ৭ জনকে ছেড়ে দেয়।

বাকী ৩০ জনকে মঠবাড়িয়া শহর হতে আড়াই কিলোটিার দূরে সূর্য্যমণি বেড়িবাঁধ সংলগ্ন খালের পাড়ে এক লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় ভাগ্যক্রমে গুলি খেয়েও ৫ জন বেঁচে গেলেও  বাকী ২৫ জন ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।

শহীদ বিরাংশু কুমার হালদারের ছেলে বিকাশ চন্দ্র হালদার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বজনহারা হয়েছি। তবে শহীদ পরিবারগুরোর প্রতি কেউ নজর দেয়নি । গণহত্যার স্থানে আজও স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত নির্মাণ হয়নি। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পেড়িয়ে গেলেও ওই শহীদদের স্বীকৃতি না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। শহীদদের এ জীবনদানের স্বীকৃতি ও সূর্য্যমণি বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ হতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »