মামা লাগবে? জটিল মাল আছে

Feature Image

সন্ধ্যা নামলেই রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনে বসে নারী বিক্রির হাট। ২০ বছর থেকে ৪০ বছরের নারী যৌনকর্মীরা সাজগোজ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর যুবকসহ বিভিন্ন বয়সের পুরুষ তাতের সঙ্গে কথ বলে গাড়িতে করে বাসায় কিংবা হোটেলে নিয়ে যান।

গত বুধবার রাতে সংসদ ভবনের সামনে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার এক পাশে পুলিশ পাহাড়া দিচ্ছে অন্য পাশে নারী বেচাকেনার দরদাম হচ্ছে।দরদামে হয়ে গেলে গাড়িতে বা মোটরসাইকেলে অথবা সিনজি করে নিয়ে যাচ্ছে। সংসদ ভবন পার হয়ে, বিজয় সরণী রোডে যেতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিজয় স্বরণী মোড় থেকে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত পুরো রাস্তার পাশে যে খালি জায়গাটা সেইখানে হচ্ছে রমরমা দেহ ব্যবসা।

 

রাস্তার পাশে খালি জায়গায় আছে ছোট ছোট চাদরের ঘর। যৌন কর্মীরা রাস্তার উপরে বসে আছে। তার পাশে পুলিশ পাহাড়া দিচ্ছে। অনেক অপেক্ষা করে দেখা যায়, যৌন কর্মীদের পুলিশ কিছুই বলছে না, কিন্তু যখন কেউ কাজ করার জন্য ঐ চাদরের ঘরে ঢুকে পুলিশ তার কিছু সময় পরে গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

যৌনকর্মীদের এ কাজে বাঁধা না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, পুলিশ কিছুই বলতে রাজি হয়নি। এই স্থানে মেয়েদের পাশাপাশি হিজরাও থাকেন। এক যৌনকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই পুরো স্থানটি মেয়েদের দখলে ছিল কিন্তু ইদানিং হিজরা এসে অর্ধেক জায়গা দখল করে রেখেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পথচারী বলেন, রাতের আধার নামলেই এখান থেকে চলার মত সুস্থ পরিবেশ থাকে না। অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার সময় প্রতিনিয়তই এই সব মহিলাদের সামনে পড়তে হয়। এটা খুবই বিরক্তিকর। সংসদ ভবনের মতো একটি পবিত্র স্থানে এ ধরনের কর্মকান্ড দেশের জন্য লজ্জার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত।

এক পথচারী বলেন, আজকে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখছি একজন মহিলা মুঠো ফোনে কথা বলছেন, ‘পাশ দিয়ে যেতে শোনা যায় তিনি কাউকে বলছেন, কিরে খানা খাইসোস আমার কাজ এখনো শেষ হয় নাই। তুই খাইয়া ঘুম যা আর আমার জন্য একটু খাবার রাইখা দিস। আচ্ছা এখন রাখ আমি পরে কথা বলমু। তারপর তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মামা লাগবে?’

 

যৌনকর্মী চম্পার কাছে এই পেশায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আমি আসছি, আসমুনা তো কি করমু। সরকারকে বলেন ৫ লাখ টাকা দিতে বিদেশ চলে যামু। তখন আর এই কাজ করমু না।’

 

এই বিষয়ে শেরেবাংলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা সোহরাব বলেন, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্কে আমারা জানতাম না এবং আমাদের কাছে এই ধরনের কোন তথ্য আসে নাই। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।

আরো খবর »