কালকিনিতে মায়ের হত্যায় পিতার ফাঁসি চায় ২শিশু সন্তান

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

মাদারীপুর থেকে ইকবাল হোসেন: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আন্ডারচর গ্রামে যৌতুকের জন্য গৃহবধু নারগিস বেগমকে হত্যায় স্বামী আসলাম চৌকিদার ও তার সহযোগী শশুর শাশুড়ী সহ সকল আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় নিহতের ২শিশু সন্তান সজিব ও সজল। আর প্রধান আসামী গ্রেফতার হওয়ার পরে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেয়ার পরে ওয়ারেন্ট ভূক্ত বাকি আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে নিহত নারগিছের ভাই মামলার বাদী মোঃ রফিকুল ইসলাম মিন্টু। তবে বাকি আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালকিনি থানার এস আই জসিম উদ্দিন। উক্ত ঘৃর্ন্য অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে একটি ন্যায় বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গ্রামবাসী।

জানাগেছে: পারিবারিক সিদ্ধান্তে ২০০৪সালে কালকিনি উপজেলার আন্ডারচর গ্রামের হাচেন চৌকিদারের ছেলে আসলাম চৌকিদারের সাথে পার্শ্ববর্তী কয়ারিয়া এলাকার রায়নন্দপুর গ্রামের আঃ রহিম হাওলাদারের মেয়ে নারগিছ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরের মায়ের দাবী মতে নগদ এক লক্ষ টাকা স্বর্ণালঙ্কার সহ সংসার সাঁজানোর আসবাবপত্র যৌতুকও দেয়া হয়। সংসার জীবনে ২টি পুত্র সন্তানেরও জন্ম হয় তাদের। কিন্তু স্বামী আসলামকে বিদেশে পাঠাতে হবে বলে চরম চাঁপ প্রয়োগ করে গৃহবধু নারগিসের পিত্রালয়ে। এক পর্যায়ে নারগিসের চাচাতো ভাই আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে ওমানেও নেয়া হয় আসলামকে। সেখানে তিনি কয়েক বছর থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং তার পিতা মাতা সহ আত্মীয় স্বজনের প্ররোচনায় দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন। এনিয়ে প্রথম স্ত্রী নারগিস বেগমের সাথে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হলে শুরু হয় তার ওপরে শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন। আর এখবর নারগিসের পিত্রালয়ে পৌছালে তারা বিষয়টির সূরাহা করতে গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ মিমাংসায় বসলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারগিছকে রাখা হয়। কিন্তু সালিশ মিমাংসার কয়েক দিনের মাথায় চলতি বছরের ২১জুলাই দুপুরে শ্বাসরোধ সহ শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয় ২সন্তানের জননী নারগিছ বেগমকে। প্রথমে হত্যাটি আত্মহত্যা বলেও চালানোর জোর চেষ্টা চালায় ঘাতকের দল। পরে ময়না তদন্তের রিপোর্টে হত্যা করা হয়েছে প্রমান হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হয় এবং পলাতক থাকা অবস্থায় প্রধান আসামী আসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারের পরে হত্যার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত ও থানায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসলাম। অপরদিকে তার পিতা হাচেন চৌকিদার, মাতা সেফালি বেগম, বোন মাকসুদা বেগম সহ অন্য ৭আসামীর ওপর ওয়ারেন্ট জারি হয়। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছে।

নিহত নারগিছ বেগমের শিশু ছেলে সজিব বলেন ‘ ঘটনার দিন আমাকে ৫০টাকা দিয়ে পাশের বাজারে পাঠায় আমার বাবা। আমি সেখান থেকে এসে দেখি আমার মাকে আমার বাবা দাদা দাদী চাচা ও ফুফুরা খাটের ওপর চেঁপে ধরেছে। আমি আসায় তারা চলে যায় এবং আমি মা মা বলে চিৎকার করলে আশে পাশের বাড়ির লোকজন এতে পুলিশে খবর দেয়। আর আমার মায়ের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। আমি আমার মায়ের হত্যার জন্য আমার পিতা সহ সকল আসামীদের ফাঁসি চাই।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালকিনি থানার এস আই মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন ‘ ওয়ারেন্ট ভূক্ত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।’

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »