জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু রোববার, সরগরম ক্যাম্পাস

Feature Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যম্পাস। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যম্পাসের পুরো চিত্র নতুন মনে হচ্ছে। যেদিকে তাকানো যায় শুধু শিক্ষার্থীদের অচেনা মুখ। কেউবা এসেছে বাবার সঙ্গে, কেউবা আত্মীয়, পরিবার-পরিজনদের সাথে নিয়ে আবার অনেকে এসেছে দলবদ্ধ হয়ে পরীক্ষা দিতে। সবার চোখ মুখে লালিত স্বপ্ন ছোঁয়ার অদম্য প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। সবাই যেন জাবির নবীন সদস্য। কারও ক্লান্তি নেই, চোখ মুখে স্বপ্ন পূরণের উৎসুক আনন্দ। রোববার থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ।

ভর্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে যেন কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রাখতে প্রশাসনের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বারবার টহল দিতে দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন জানান, ভর্তি পরীক্ষায় যেন কোনো ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে এবং কুচক্রীমহলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা ক্যাম্পাসে টহল দিচ্ছি।

অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে এবং কুচক্রী মহলকে শনাক্ত করতে প্রথমবারের মত মোবাইল কোর্ট চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা। মোবাইল কোর্টের কাজ হলো অপরাধীকে শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করা।

জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জালিয়াতি ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে এ বছর মোবাইল কোর্ট চালুর মাধ্যমে জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা বন্ধ ও তাৎক্ষনিক বিচার নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহয়তায় ক্যাম্পাসে বসেছে বিভিন্ন জেলা সমিতি সংগঠনের ট্যান্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশ পথ (ডেইরি গেট) দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে এ সব ছোট বড় জেলা সমিতি সংগঠনের ট্যান্টের।

এমনই এক জেলা সমিতি বৃহত্তর লালমনিরহাট জেলা সমিতি, এই জেলা সমিতি সংগঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর ইসলাম জানান, দূরের জেলা লালমনিরহাট থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে আসেন। কিন্তু নতুন জায়গা পরিবেশে তারা বুঝে উঠতে পারে না কি করবে, কোথায় থাকবে। তাই আমরা সেই সব আগত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য এই ট্যান্টের আয়োজন করেছি।

বটতলায় খাবারের দোকানে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। সারাদিন দোকান মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আসায় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে বলা জানিয়েছেন এক দোকান মালিক। দাম বেশি রাখছেন কি না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে একজন ভর্তিচ্ছুর কাছে শোনা গেল ভিন্ন তথ্য, ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ তাদের কাছে দাম বেশি রাখা হচ্ছে।

ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা অনিক আহমেদ বলেন, আমার কাছে মাছ ৬০ টাকা, ভর্তা ১০ টাকা এবং ভাতের প্লেট ৮ টাকা করে রেখেছে।

আরো খবর »