ফের চাপে জামায়াত, শীর্ষ নেতৃত্বে আসছেন কারা?

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: ফের চাপের মুখে পড়লো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী। গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের ধারাবাহিকতায় প্রায় সাত বছর পর একসঙ্গে আটক হলেন দলটির আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ ৬ শীর্ষ নেতা। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর দলটির  আরও আটক নেতাকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্য দিয়ে মাত্র ১০ দিনে জামায়াতের প্রথম সারির প্রায় সব নেতাকেই আটক করা হলো। এতে দ্বিতীয় দফায় নেতৃত্বের সংকটের মুখে পড়লো জামায়াত। এই ঘটনায় নতুন চিন্তা যুক্ত হলো দলে। দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন মূল প্রশ্ন—কারা আসছেন দলের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত হয়ে? সোমবার মধ্যরাতে জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

জামায়াতের আমির, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেলসহ ছয় নেতা আটক হন সোমবার রাতে। এছাড়া দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের সহযোগী নজরুল ইসলাম, তার বাড়ির মালিক ও একজন দারোয়ানকেও আটক করা হয়। রাজধানীর উত্তরার একটি বাড়ি থেকে  গোয়েন্দা সংস্থা তাদের আটক করে ডিবির হাতে হস্তান্তর করে।

এর আগে ২০১০ সালের ২৯ জুনে একদিনে একসঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে ফাঁসিতে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নায়েবে আমির দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী। নিজামী-মুজাহিদের গ্রেফতারের পর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আমিরের দায়িত্ব পান মকবুল আহমাদ। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মনোনীত হন (বর্তমানে মাবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কারাগারে থাকা) এটিএম আজহারুল ইসলাম। ২০১২ সালে ২২ আগস্ট তাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্বে আসেন সিলেটের প্রভাবশালী নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পরে মকবুল আহমাদ সাড়ে ছয় বছর এবং শফিকুর রহমান ৫ বছর যথাক্রমে আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১৭ অক্টোবর  মকবুল আহমাদ আমির নির্বাচিত হন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের হাতে আটক হন জামায়াতের প্রথম সারির চার নেতাসহ ৯ জন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা  মহানগর দক্ষিণ শাখার আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও কেন্দ্রীয় মসজলিসে শুরার সদস্য আবদুস সবুর ফকির, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মাওলানা ফরিদুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ও সোমবার (৯ অক্টোবর) জামায়াতের প্রথম সারির বেশিরভাগ নেতাকে আটকের মধ্য দিয়ে আবারও নেতৃত্বের সংকটে উপনীত হলো। বরাবরই জামায়াত অভিযোগ করে আসছে, সরকার নেতৃত্বের সংকট তৈরি করতেই তাদের গ্রেফতার করে। কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও সারাদেশে জামায়াতের প্রায় কয়েকশ আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন জেলার আমির ও সেক্রেটারি রয়েছেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »