মাগুরা-২ আ’লীগ ও বিএনপির রাজনীতির হালচাল, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

Feature Image

মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বলঃ  মাগুরা-২ জাতীয় সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। মহম্মদপুর, শালিখা, সদর উপজেলার আংশিক নিয়ে মাগুরা-২ নির্বাচনী এলাকা। একাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ।

মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি, শালিখা উপজেলার ৭টি, সদর উপজেলার ৪টি সহ মোট ১৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দুই দলেয় একাধিক নেতা মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

মনোনয়ন পেতে এর মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, লবিং ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে গনসংযোগ এবং পোষ্টার ব্যনার লাগিয়ে চলেছেন তারা। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মনোয়ন দাবি করবেন গত দুই মেয়াদে পরপর আওয়ামীলীগের পক্ষে নির্বাচিত হন ও বর্তমান সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য ড. শ্রী বীরেন শিকদার। ‘৯৬’র সংসদেও তিনি এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ ছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনিই এ আসনে মনোনয়ন পাবেন ও বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক যুক্তরাজ্যে ম্যানচেস্টার দুতাবাসের কাউন্সিলর ড. ওহিদুর রহমান টিপু, এবং গত কয়েক দিনের জাতীয় দৈনিকে উঠে এসেছে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সদস্য কামরুল লায়লা জলি ও অ্যাড. শফিকুজ্জামানের বাচ্চুর নাম ।

এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে তালিকায় রয়েছে সাবেক দুই বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাগুরা জেলা বি.এন.পির সাবেক সভাপতি শিল্পপতি আলহাজ্জ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চেীধুরী এবং বর্তমান মাগুরা জেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ আলী করিমের নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন মহম্মদপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো: খসরুল আলম।

মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে কোন গ্রæপিং দেখা না গেলেও নেতৃত্বেও প্রতিযোতিগতা রয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছেন। তবে এ সকল চেয়ারম্যান জামায়াত-বিএনপিকে সহযোগিতা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্য দিকে মাগুরায় বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই দুটি গ্রæপে বিভক্ত। একটির নেতৃত্বে সাবেক মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অন্যটি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি কাজী সালিমুল হক কামাল।

এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ২০০১ সালের নির্বাচিত বিএনপির সংসদকে বাদ দিয়ে সাবেক মন্ত্রী এ্যাড. নিতাই রায় চেীধুরীকে মনোয়ন দিলেও বেশ ব্যবধানে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. শ্রী বীরেন শিকদারের কাছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পূনরায় আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় ড. শ্রী বীরেন শিকদার। জয়ের পর থেকে তিনি এই আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তার অনুসারীরা। সেই ধারনা মতে তার অনুসারীরা বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবারও তাকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে নৌকার প্রতীকের মালিক বানাবেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য এবং জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। জয় শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য উপজেলায় উপজেলায়, ইউনিয়নে ইউনিয়নে, ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি এলাকায় আসলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় , বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। এদিকে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য তিনিও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সাথে যোগাযোগ রাখছেন ও সাধারন জনগনের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।
অন্য আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ড. ওহিদুর রহমান টিপু শুভেচ্ছা পোষ্টারে পোষ্টারে সারা নির্বাচনী এলাকায় ছেয়ে ফেলেছেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে।

অন্যদিকে বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে চরম মূল্য দিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন মহম্মদপুর শালিখা উপজেলা এবং দক্ষিন মাগুরা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সরকারের বিভিন্ন চাপের মুখে পড়ে ঘরোয়া ভাবে নানা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে সাংগঠনিক ভাবে সব ইউনিটকে গুছিয়ে নিচ্ছে বলে জানান জেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ আলী করিম। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মাগুরা জেলা বিএনপির সাবেক দীর্ঘদিনের সভাপতি বার বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য নেতা কাজী সালিমুল হক কামাল মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিংয়ের পাশাপাশি এলাকায় তার পক্ষে প্রত্যেক উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিসহ এলাকায় গনসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. নিতাই রায় চেীধুরীও তার অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিসহ এলাকায় গনসংযোগের পাশাপাশি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি এবারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ধানের শীষের মালিক হওয়ার জন্য।
জামায়াত রয়েছে কৌশলি ভুমিকায় । ইসলামী দলসহ জোট – মহাজোটের বাইরে থাকা দলগুলো রাজনৈতিক মাঠে পা ফেলছে অনেকটা সর্তকভাবে। জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হলেও তাদের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

আরো খবর »