শতাধিক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রনে রাজশাহীর ইয়াবা সিন্ডিকেট

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

রাজশাহী থেকে ওবায়দুল ইসলাম রবি: রাজশাহীতে ইয়াবা আসছে টেকনাফ থেকে। শতাধিক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রনে রাজশাহীর ইয়াবা সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য এ সিন্ডিকেট অভিনব কৌশলে সরাসরি চট্রগ্রামের টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসছে রাজশাহীতে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইয়াবা বিরোধী অভিযানে তেমন সফলতা না দেখলেও সম্প্রতি ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারীকে আটক করে র‌্যাব।

রাজশাহী থেকে চট্রগ্রামগামী মাইক্রো ও ট্রাক, বাস, ড্রাইভারদের মোটা অংকের অর্থেও প্রলোভন দিয়ে তাদেরকে ইয়াবা পাচারে প্রলুব্ধ করছে। ট্রাক ও বাসের ভেতরেই কৌশলে করে বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে আসা হচ্ছে। এবং বিলাস বহুল প্রাইভেট গাড়িও ব্যবহার করছে এ চক্র। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী এড়াতে নানা কৌশল করে বড় ইয়াবার চালান নিয়ে আসাছে। পরে এই ইয়াবাগুলো রাজশাহী থেকেই পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া জয়পুরহাটে ও শান্তাহারে পাঠানো হচ্ছে।

রাজশাহীর ইয়াবা সিন্ডিকেটে সবার উপরে নাম কালাম মোল্লার। বিভিন্নব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন। তার বিলাস বহুল গাড়ি তল্লাশি করে বিপুল পরিমান ইয়াবা ও হেরোইনসহ আটক করে র‌্যাব। সঙ্গে আটক হয় তার আপন ভাইরা ভাই রবিও।বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।

এছাড়াও চারঘাটের টাঙ্গনের ইউসুফ আলীও অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী। প্রায় কোটি টাকার ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটকের পর বর্তমানে সে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে। চারঘাটের চামটা গ্রামের শাহআলমের পুরো পরিবারই ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। কয়েক হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে র‌্যাবের হাতে আটকের পর গত আগষ্টে তিনি যখন জেল ছাড়ার পর তার স্ত্রী শারমিনকে ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে। একইভাবে চট্রগ্রাম থেকে ইয়াবা আনার সময় ফেনিতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয় পুঠিয়া নামাজগ্রামের সাহাবুর। বর্তমানে তারা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এ ইয়াবা সিন্ডিকেটে অন্যান্যরা হলো, চারঘাট টাঙ্গন এলাকার আলম, লিটন, হলিদাগাছির সাইফুল, মুন্টু, মনির, চামটার বেনজির, খালেক, আব্দুল আলিম কালু, মোক্তার হোসেন, বাদুরিয়ার লিটন, লালন, ইদ্রিস, গোবিন্দপুরের মোকলেস, তাতারপুরের বাসার, ইউনুস, পুঠিয়া নামাজগ্রামের রাজ্জাক, মাজেদুল, সেলিম, সাহাবুর, দীঘলকান্দির বাবু, জামিরার নাহারুল জয়পুরের মোস্তাক। এরাসহ প্রায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রন করছে এ সিন্ডিকেট। এক শ্রেনীর অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন আতাত থাকার কারণে ইয়াবা গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রতিদিন ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

এবিষয়ে পুঠিয়ার শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে ইয়াবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামাঞ্চলে যেভাবে ইয়াবার আগ্রাসন হচ্ছে তাতে করে সবাই ভয়াবহ হুমকিরে মধ্যে আছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ করতে হলে নানাভাবে নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে প্রকাশ্য ওইভাবে লোকজন প্রতিরোধ করতে আসেনা। তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ব্যাপারে তৎপরতা বাড়ানোর আহবান জানান।

চারঘাটের ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন এটা নিয়ন্ত্রন করতে আমাদের আরো ফোর্স এবং সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। ছোট জনবল নিয়ে আগের তুলনায় মাদকবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি করেছি। মাদক ব্যবসায়ীদেও গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ী চারঘাটের বাইরে থাকে তবে ওই সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি। মাদক ব্যবসায়ীদেও গ্রেপ্তারে কোন উদ্যোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে জানতে চাইলে পুঠিয়ার ওসি সাইদুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত গ্রেপ্তারে রয়েছে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া বলেন, জেলার প্রত্যেক থানার ওসিদের এ ব্যাপরে কঠোর নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী যে হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থাসহ গ্রেপ্তার করা হবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »