২ জন শিক্ষক পাঠদান করে ২২১ জন শিক্ষার্থীদের

Feature Image

১৭১৯ সালে প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলার ৩৬ নং হিজলাবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানান সমস্যায় জর্জরিত।
বিদ্যালয় থেকে বাল্যশিক্ষা লাভ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবনে সম্ভাবনা ও উন্নয়নের আলো নেমে এলেও এখন পর্যন্ত চোখে পরার মত কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় ৩ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হিজলাবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে।

কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও অবমুল্যায়নের কারনে হালকা বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ সহ খেলার মাঠে পানি ও কর্দমা জমা,বর্ধিত শিক্ষার্থীর চাহিদার তুলনায় শিক্ষক স্বল্পতা,শ্রেনী কক্ষ ও বেঞ্চ সংকট,টিনের চালা দিয়ে বৃষ্টির পানিতে ক্লাসে ব্যাহত হওয়া সহ নানান সমস্যায় জর্জায়িত ইতিহাসের স্বাক্ষবহ ঐতিহ্যবাহি বিদ্যালয়টি। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রামানন্দ জোয়ার্দার বলেন বিদ্যালয়ে ২২১ জন ছাত্র-ছাত্রী। তন্মধ্যে ১১৭ জন ছাত্র ও ছাত্রী ১০৪ জন। আর এই ২২১ জন বর্ধিত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৩ জন শিক্ষক।

এর মধ্যে প্রধান শিক্ষককে বিভিন্ন সময়ে অফিসের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে ২ জন শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ে ২ টা ঘর যার একটি পাকা ভবন অপরটি টিনশেটে আধা পাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন টিনশেট ঘরটি সংস্কার না করায় ছাদের টিন দিয়ে বৃষ্টির পানি পরায় টিনশেট ঘরটি ব্যবহারে সম্পুর্ন অনুপযোগী হয়ে আছে। তিনি বলেন বিদ্যালয়ের রুম ও বেঞ্চ সংকটে নানা ভোগান্তি শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি খন্দকার হাবিবুর রহমান বিদ্যালয়ের নানান সমস্যা স্বীকার করে বলেন, ১৭১৯ সালে হিজলাবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত। নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পারি দিতে দিতে ১৯৮৭ সালে টিনশেটের আধা পাকা ঘরটি নির্মান করা হয়।পরবর্তীতে ২০১০ সালে একটা পাকা ভবন নির্মিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারনে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও প্রধান পথে জলাবদ্ধতা সহ নানান সমস্যায় জর্জায়িত হয়ে আছে।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র মাহিম(রোল নং-১) বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা,বেঞ্চ, শ্রেনী কক্ষ সহ শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে।এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমি বিদ্যালয়ের পক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কে দৃষ্টি আকর্ষন করছি,যতদুর সম্ভাব বিদ্যালয়ের সমস্যা নিরোসন করে সুষ্ঠ পাঠদানে সহায়তা করা হোক।
এবিষয়ে খোকসা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃমিনা পারভীন বলেন,আমি সাম্প্রতি এখানে এসেছি,বিদ্যালয়টি সম্পর্কে আমার অজানা। তবে আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরো খবর »