কুড়িগ্রাম সদরে সম্বন্ধীর জন্যে বোনজামাই, দুলাভাইয়ের জন্যে শ্যালক প্রার্থী

Feature Image

কুড়িগ্রাম-২, সদর আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্যে ইতোমধ্যেই প্রায় দশ জন প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন। কমবেশি সবাই মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ভাবে জনসংযোগ চালাচ্ছেন। এর মধ্যেই অতিসম্প্রতি আরো একজন প্রার্থী ঘোষনা দিয়েছেন। জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সামিউর রহমান হিরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন।

কুড়িগ্রামে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নাম সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে। ২০০৬ সালে বাতিল ঘোষিত নির্বাচনে তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। কুড়িগ্রাম শহরের সর্দারপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি রয়েছে। মাঝে একবার স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি কুড়িগ্রামের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তবে বর্তমানে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তাঁর অবস্থান নমনীয় বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন। এ ছাড়া এই আসনে প্রার্থী হিসেবে দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক সাধারন সম্পাদক উমর ফারুখ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এর নাম শোনা যাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বিএনপির শক্ত অবস্থান কুড়িগ্রাম -২ আসনে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টিতে বিএনপির চেয়ারম্যান। রাজারহাট ও ফুলবাড়ীতে বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপির চেয়ারম্যান মেম্বার রা নির্বাচিত হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ও সাইফুর রহমান রানার আপন বোন জামাই । যেহেতু কুড়িগ্রাম-১ আসনে সাইফুর রহমান রানার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে তাই সদর আসনে মাঠ ধরে রাখার জন্যে বোনজামাইকে দিয়ে প্রক্সি দিচ্ছে।আবার এই আসনের আরেক প্রার্থী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকের আপন শ্যালক সামিউর রহমান হীরা।

নামপ্রকাশে এক বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডঃ রুহুল কবির রিজভী এই আসনে নির্বাচন করার নূন্যতম ইচ্ছা ব্যক্ত করলে তিনি ই মনোনয়ন লাভ করবেন। আর তিনি নির্বাচন না করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, ২০০১ এর প্রার্থী লুৎফর রহমানের মনোয়ন লাভ সহজতর হবে, কারণ বিএনপি সরকার আমলে তার ব্যাপক উন্নয়ন এখনো আলোচিত।

নতুন প্রার্থী সামিউর রহমান হিরা আমেরিকাতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতেন। শুধুমাত্র রাজনীতির কারণে তিনি প্রায় এক দশক যাবৎ কুড়িগ্রামে অবস্থান করছেন, দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় জেল জুলুম নির্যাতন ভোগ করেছেন।
সামিউর রহমান হীরা প্রার্থী হওয়ায় জেলা বিএনপির বেশ কিছু নেতা স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সমস্যা কি? সমন্ধির জন্যে বোনজামাই প্রার্থী হলে দুলাভাইয়ের জন্যে শালাও প্রার্থী হতে পারে।

যেহেতু সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জেলা সদরে না থাকার কারণে তার পক্ষে বোনজামাই যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হাসনাইন কায়কোবাদ দায়িত্ব পালন করেন, সেহেতু সাইফুর রহমান রানার পক্ষে তার প্রার্থী সাজাও অস্বাভাবিক কিছু না।

আরো খবর »