বিদেশে পালিয়েছেন দুর্নীতি ঢাকতে

Feature Image

প্রধান বিচারপতি দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে বিদেশে পালিয়েছেন। তাকে কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
ইস্যু তৈরির জন্য একটা রাজনৈতিক মহল অযথা চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১১টি অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ থাকায় আপিল বিভাগের অন্য পাঁচজন বিচারপতি তার সঙ্গে আদালতে বসবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই পদত্যাগ অথবা ছুটিতে যাওয়া ছাড়া তার কোনো পথ খোলা ছিল না। গত শুক্রবার নিউজ টোয়েন্টিফোরে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি আরও বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায়ের সঙ্গে তার ছুটিতে যাওয়া সম্পৃক্ত না।

 

আমি অথরিটি নিয়েই বলছি, আপিল বিভাগের অন্য পাঁচজন বিচারপতি অত্যন্ত দৃঢ়চিত্তে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আদালতে বসবেন না বলে জানিয়েছেন। যেহেতু তারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির ১১টি তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন সেহেতু তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আর বসবেন না। এই অবস্থায় প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ করা অথবা ছুটিতে যাওয়া ছাড়া পথ ছিল না। আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতি তাকে ১ অক্টোবর এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন। আদালত খুলেছে ৩ অক্টোবর। আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের গায়ে কোনো দুর্নীতির দাগ নেই। তাহলে তারা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কারও সঙ্গে বসবেন এটা তো হতে পারে না। এই বিষয়টি তাদের একত্রিত করেছে। গণমাধ্যমে প্রধান বিচারপতির দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে উল্লেখ করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, প্রধান বিচাপতির ৪ কোটি টাকার পে-অর্ডার ব্যাংকে জমা হয়েছে, ট্যাস্ক রেকর্ডে অনেক মিথ্যা কথা বলেছেন, নয়তলা ভবন করে ছয়তলা বলেছেন। কীভাবে এই অর্থ এলো তার হিসাব নাই।

 

এ ছাড়া একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছিল। এই তদন্ত বন্ধ করতে তিনি তার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অনুপ কুমার চক্রবর্তীকে দিয়ে দুদকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন যেন তদন্ত বন্ধ করা হয়। এটা তো অপরাধ। তাই এমন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বিচারপতির সঙ্গে অন্য বিচারপতিরা কেন বসবেন। তখনই এস কে সিনহার পদত্যাগ অথবা ছুটিতে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ তিনি তো একা কোর্টে বসতে পারবেন না। এটা আইনত বৈধ না। তাই তিনি ভাবলেন পদত্যাগ করার চেয়ে ছুটিতে যাওয়াই ভালো। ২ অক্টোবর গিয়ে তিনি ছুটির দরখাস্ত দিলেন। তিনি কোনো চাপে ছুটিতে গেছেন এটা একেবারেই ঠিক না।

 

তার ছুটি চাওয়া ছাড়া কোনো পথই ছিল না। সাবেক এই বিচারপতি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বাইরে যেতে দেওয়া ঠিক হলো না। আজ হোক কাল হোক তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হবেই। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তিনি তো আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি তো পালিয়ে চলে যাচ্ছেন। পালিয়ে গেলে মামলা হলে তাকে ফেরত আনা কঠিন হয়ে যাবে। অপরাধীদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অনেক কঠিন। তাই তাকে চলে যেতে দেওয়াটা ঠিক হলো না। মাত্র তিন দিন আগে একটি রুল ইস্যু করেছে হাই কোর্ট। এস কে সিনহার নির্দেশে একজন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার দুদকে চিঠি লিখেছেন সাবেক একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে। এই কাজটি কেন বেআইনি বলে ঘোষণা করা হবে না সেটা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। রুলটি যদিও অনুপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কিন্তু বস্তুত এটা এস কে সিনহার ওপর করা হয়েছে। অনুপ চক্রবর্তী তো নিজে লেখেননি। তিনি প্রধান বিচারপতির নির্দেশে লিখতে বাধ্য হয়েছেন।

 

এই চিঠিতে প্রধান বিচারপতি ফেঁসে যাবেনই। তখন তাকে আর এসব দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা যাবে না। তার বিরুদ্ধে অন্য দুর্নীতির মামলাও শুরু হবেই। তার যে প্রচুর টাকা অস্ট্রেলিয়া-কানাডায় জমা হয়েছে সেসব অভিযোগও এসেছে। তার এসবের সহচর রণজিৎ সাহা। তিনিও তো স্ত্রী-ছেলেকে রেখে সিঙ্গাপুর পালিয়ে গেছেন। এটা নিয়ে একটা রাজনৈতিক মহল অযথা ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছেন। এটা নিয়ে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের চামড়া বাঁচাতে ছুটি নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় যেন তাকে পাওয়া না যায় এ জন্য তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

আরো খবর »