খালেদা জিয়ার পরবর্তী হাজিরা ২৭ নভেম্বর

Feature Image

হত্যা ও নাশকতার দশ মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার হাজির তারিখ আবার পেছানো হয়েছে। রবিবার খালেদা জিয়ার হাজিরার দিন ধার্য ছিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীদেও সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে বিচারক মো. কামরুল হোসেন মোল্লা আগামী ২৭ নভেম্বও নতুন তারিখ ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রদ্রোহসহ অধিকাংশ মামলা এখন হাইকোর্টেও নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ ও জিয়া উদ্দিন জিয়া এ কারণে সময়ের আবেদন করেন। আদালত মঞ্জুর কওে নতুন তারিখ ধার্য করেন।

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৩১ যাত্রী দগ্ধ ও জখম হয়। তাদের মধ্যে নূর আলম নামে একজনের মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় দ-বিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করা হয়েছিল। এই হত্যা মামলার তারিখ ধার্য ছিল আজ। এ ছাড়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তারিখ ধার্য ছিল।

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে। ”

ওই বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাবের পরিচয় রয়েছে অভিযোগ করে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্্েরট আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টেও আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। ওই মামলা করার আগে তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও নেন।

নাশকতার ৯ মামলা : রাজধানীর দারুস সালাম থানায় ২০১৫ সালে দায়ের করা নয়টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয় গত বছর বিভিন্ন সময়ে । ওইসব মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর মহনাগর দায়রা আদালতে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়। এসব মামলায় খালেদা জিয়া জামিন নেওয়ার পর অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন তারিখে সময় নেওয়ার কারণে বার বার শুনানি পেছানো হয়। গত কয়েকমাসে অধিকাংশ মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করা হয়। এসব মামলার হাজিরা ছিল আজ।

গত বছরের ৬ জানুয়ারি দারুসসালাম থানাধীন শাহ আলী মাজার রোডের জমিদারবাড়ির পাশের এবি ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় এসআই (উপপরিদর্শক) কামরুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় খালেদাসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ২৯ জানুয়ারি একই থানার মিরপুর ১ নম্বর মুক্তি প্লাজার পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন একটি মামলা করেন। এ মামলায় খালেদাসহ ২৭ জনের অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি একই থানার এ্যাপেক্স শোরুমের সামনে , ৩ ফেব্রয়ারি গাবতলী টু সদরঘাট রুটে চলাচলকারী একটি মিনিবাসে দারুসসালাম এলাকায়, ৪ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহ আলী মাজারের খালি বালুমাঠের পূর্ব পাশে দুটি গাড়িতে, ২০ ফেব্রুয়ারি দিয়াবাড়ী কবিরের ঝুটের ঘরের অন্য পাশে বালুর মাঠসংলগ্ন এলাকায়, ৩ মার্চ গাবতলী বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গ্রেট ওয়ালের মাঠে পার্ক করা একটি মিনিবাসে, একই মাসে দারুস সালাম এলাকায় আরও দুটি স্থানে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মোট নয়টি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

আরো খবর »