নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে: ফখরুল

Feature Image

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালিন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি এ কথা বলেন। এদিন বেলা ১১টার পর ইসির সঙ্গে বিএনপির সংলাপ শুরু হয়। কমিশনের সঙ্গে বিএনপির পৌনে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষ হয় দুপুর ২টার দিকে।

 

ইসিতে দেয়া প্রস্তাব নিয়ে ফখরুল বলেন, আমরা কমিশনকে বলেছি- নির্বাচন যাতে প্রহসনমূলক না হয় সেটা তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আমরা যে প্রস্তাবনা দিয়েছি এর মধ্যে রয়েছে- এখন থেকে সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের সমান সুযোগ ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে। ইভিএম’র কোনও ধরনের ব্যবহার চলবে না। প্রশাসনকে দলীয়করণ মুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক সব ধরনের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

 

তিনি বলেন, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্বাচনের আগে অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের খুব বেশি কিছু করার নেই। তারপরও এই সংলাপের পর বিএনপি খুব বেশি না হলেও কিছুটা আশাবাদী তো বটেই। ফখরুল বলেন, তবে তারা (ইসি) আমাদের কথা মনযোগসহকারে শুনেছেন। তারা বলেছেন, আপনারদের (বিএনপির) প্রস্তাবনা আমাদের খুব উপকারে আসবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘সংলাপে আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনও তাদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছে।

 

তবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন ও সহায়ক সরকারের যে দাবির কথা তাদের বলেছি, সেই ব্যাপারে কমিশন তাদের ক্ষমতার মধ্য থেকে কিছু করার চেষ্টা করবে বলে আমাদের জানিয়েছেন।’ সংলাপে বিএনপি ২০ দফা দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে উলে­খযোগ্য হলো নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকার নিশ্চিত করতে হবে, ভোটের আগে অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিতে হবে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে, গুম–খুন–হয়রানি বন্ধ করতে হবে, ই-ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার করা যাবে না, সব রাজনৈতিক দলকে এখন থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে, সব দলের জন্য এখন থেকে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি করতে হবে, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে থেকে মোতায়েন করতে হবে, সিইসি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না পুরো ইসি বসে সিদ্ধান্ত নেবে এবং ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে। ইসির সংলাপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্ররায়, তরিকুল ইসলাম, লে.জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাবেক সচিব আবদুল হালিম, ক্যাপ্টেন সুজাউদ্দিন।

আরো খবর »