সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষতা,জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন রয়েছে

Feature Image

পিরোজপুর থেকে এস সমদ্দারঃ  জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের দেশের সাংবাদিক নেতারা বহুদিন আগে এই প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন বলেই সরকারি প্রতিষ্ঠান পিআইবি’র ব্যবস্থাপনায় এখন উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। চর্চ্চা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের এসব গুন অর্জন করতে হয়। পশ্চিমা এক সাংবাদিকের উদ্বৃতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি নিরপেক্ষ নই তবে অসত্যের বিরুদ্ধে আমার লেখনী সোচ্চার”। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়ন হচ্ছে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সাংবাদিকদের উচিত উন্নয়ন কোথায় বাধাগ্রস্ত বা অসমাপ্ত রয়ে যাচ্ছে তা অনুসন্ধান করে সংবাদ করা। কোথাও কোথাও উন্নয়নের চেষ্টা বা প্রক্রিয়া দেখে এ কথা বলা ঠিক নয় যে, সে এলাকাটিতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কারণ উন্নয়ন ধারায় অনেক আকাঙ্খা অপূরণ থেকে যায়। দেশের ৫২২টি উপজেলা আজ সড়ক যোগাযোগ সংযুক্ত হয়েছে বলে সর্বত্র উন্নয়নের মান এখনও সমান নয়।

তিনি রবিবার দুপুরে জেলার ভাÐারিয়ায় তিন উপজেলার গণমাধ্যম কর্মীদের বাংলাদেশ প্রেস ইনষ্টিটিউট-পিআইবি’র তিন দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। এখন দেশে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র অনেক উন্নত হচ্ছে। ব্যাপক পরিসরে সাংবাদিকতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও কম নয়। আগে যারা সঠিক সাংবাদিকতা করেছেন তারা অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপন করতেন। এ অবস্থার মধ্য থেকেও অনেক সংগ্রাম করে এ পেশায় সাফল্য দেখিয়েছেন। মানিক মিয়া-আব্দুস সালামের মত ব্যক্তিত্বরা সাংবাদিকতার স্ব স্ব অবস্থানে থেকে তাদের আমলে অনেক সাহসের সাথে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন দুই একটি পত্রিকার অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংবাদপত্র প্রকাশ করা হতো।

 

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ব্যবসায়িক লক্ষ্য নিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বর্তমানে ঝুঁকি ও বিপদের মধ্যে সংগ্রাম করে সীমিত সম্পদের মধ্যেও কেউ কেউ সংবাদপত্র শিল্পে বিনিয়োগ করেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, পৃথিবীতে এখন আর কেউ একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী নন।

পশ্চিমাধুনিয়ায় ধনকুবের বা সম্পদশালীরা সংবাদপত্রের মালিক হন, কিন্তু সম্পাদক নন। তাদের সংবাদপত্রে মালিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধেও সংবাদ লেখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা তিরস্কৃতও হন। এ ক্ষেত্রে ওই সব সাংবাদিক যাদের বিরুদ্ধে সংবাদ করেন সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য ছাপা হলে সংবাদটি প্রকৃত সত্যাশ্রয়ী হয়। সেসব দেশের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধানরা সাংবাদিকদের গালমন্দ করেন। তারপরও সংবাদপত্র বা সাংবাদিকরা প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করে যাচ্ছেন। যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। আমাদের দেশে সরকার বা রাজনীতিবিদরা যা করতে পারেন নি। তা সংবাদপত্রে বড় করে দেখা হয়। এক্ষেত্রে বলতে হবে ব্যক্তির ব্যত্যয় রাজনীতির ব্যত্যয় নয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সংবাদকর্মীদের জন্য ওয়েজবোর্ড তাদের পেশা ও জীবিকার সর্বনি¤œ নিশ্চিয়তা দিয়েছে। সকল সংবাদ প্রতিষ্ঠান সমানভাবে স্বচ্ছল নয়। এ কারণে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন বা নতুন বোর্ড গঠন নিয়ে দাবী উঠে। মিডিয়ার মালিকরা এ নিয়ে ওয়েজবোর্ডের সভায় অংশ নেন না, যা ঠিক নয়। তিনি ভাÐারিয়ায় পিআইবি সাংবাদিকদের জন্য যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।

ভাÐারিয়া মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পিআইবি’র পরিচালক আনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ভাÐারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন আক্তার সুমী, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিউল হক মিঠু ও পিআইবি’র প্রশিক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, মজিদা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন মামুন, জাতীয় পার্টি-জেপি’র যুগ্ম আহŸায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারেক, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফসিউল ইসলাম বাচ্চু, ভান্ডারিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।

সাংবাদিকতার মান ও দক্ষতার বৃদ্ধিতে ভাÐারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানি উপজেলায় সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের চার দিনের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ভাÐরিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ অডিটরিয়ামে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচিতে তিন উপজেলার ৪৫ জন গণমাধ্যম কর্মী অংশ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণে স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ তৈরী, সংগ্রহ, প্রেরণসহ সংবাদের উপর মৌলিক ধারণা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে, পিআইবি পরিচালক (অধ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ) আনোয়ারা বেগম, বাংলাভিশনের সিনিয়র এডিটর রুহুল আমীন রুশদ, ইত্তেফাকের ষ্টাফ রিপোর্টার মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী ও পিআইবি’র প্রশিক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বী প্রশিক্ষক হিসাবে সাংবাদিকদের এ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে রিসোর্সপার্সন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরো খবর »