সাদুল্যাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গাইবান্ধা থেকে ফরহাদ আকন্দ: গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার কান্তনগর বিণয়ভূষণ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হকের বিরুদ্ধে দাতাসদস্য অন্তর্ভুক্তিতে অনিয়ম, অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রেশন ফি এবং বিদ্যুৎ বিল আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে যোগসাজসে তিনি এসব অনিয়ম করছেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মের কারণে লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। তার কাছে শিক্ষক-কর্মচারি ও ছাত্রছাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিশেষত বিদ্যালয়ে দাতাসদস্য অর্ন্তভুক্তি নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ চলছে।

বিদ্যালয় সুত্র জানায়, দাতা সদস্যের জন্য গত ২৮ আগষ্ট বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাতা সদস্য হতে এক মেয়াদের জন্য ২০ হাজার ও আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা জমা দিতে হবে। জমার রশিদসহ গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের পরও প্রধান শিক্ষক তার পছন্দের লোকের চারটি আবেদন জমা নেন। এই অভিযোগ দাতাসদস্য প্রার্থী সাদুল্যাপুর উপজেলার কিশামত দশলিয়া গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের।

দাতা সদস্য প্রার্থী ধীরেন্দ্রনাথ সরকার অভিযোগ করেন, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের পরে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক একরামুল হক চারটি আবেদনপত্র জমা নিয়েছেন। যা নিয়মের বহির্ভুত। বিষয়টি সাদুল্যাপুরের ইউএনওকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

এদিকে চলতি বছরের মে মাস থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানায়, প্রতিজন শিক্ষার্থীকে বছরে ৬০ টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাকে ৩০ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়েছে। কিন্তু বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস ঠিকমত পাইনা।    এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানোর কারণে ছাত্রছাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রীর অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে মেয়েদের দিক করেই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে আমাদের স্বাভাবিক চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নবম শ্রেনির ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য ২১০ টাকা ফি ধরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে চিঠি এসে পৌঁছে। এর চার মাস আগে ৪০০ টাকা ফি ধরে এই বছরেরই ১৬ মে রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য বিদ্যালয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। ফলে নবম শ্রেনির ৬৩ জন ছাত্রছাত্রীর রেজিষ্ট্রেশন ফি বেশি নেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকে চিঠি আসার পর মাত্র একজন ছাত্রী রেজিষ্ট্রেশন করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবম শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, এবার ২১০ টাকা রেজিষ্ট্রেশন ফি হলেও আমাদেরকে চারশত টাকা দিতে হয়েছে। একই শ্রেনির এক ছাত্রী জানায়, রেজিষ্ট্রেশন ফির টাকা জমা দিতে দেরী হওয়ায় আমাকে ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়েছে।

সহকারি শিক্ষক রেজা শাহজাহান প্রামানিক গত এপ্রিল মাসের বেতন পাননি। তিনি বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ থাকায় আমি প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছিলাম যে বিকেলের একটি ক্লাশ নিতে পারবো না। পরদিন স্কুলে এলে আমাকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশের জবাবও দিয়েছিলাম। বিনা অপরাধে সেই মাসের বেতন আমাকে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিনা কারণে অফিসের পিয়ন ও অন্যান্য শিক্ষকদেরও বেতন বন্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। পরে অর্থের বিনিময়ে সমাধান করতে হয়েছে তাদের।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির ছাত্রী ফাহিমা ও রুনা আক্তার টাকা জমা দিলেও রেজিষ্ট্রেশন এখনো করা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ওই শ্রেণিকক্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা জানতে চাইলে বিষয়টি দেখছি বলে এড়িয়ে যান প্রধান শিক্ষক একরামুল হক। তবে তারা টেস্ট পরীক্ষা দিচ্ছে। রুনা আক্তার জানায়, ক্লাশের সবার রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও আমার ও ফাহিমার রেজিষ্ট্রেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রধান শিক্ষক স্যারের কাছে গেলেও কোন সমাধান পাইনি।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আবু হোসেন মন্ডল বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাতা সদস্য হিসেবে  অন্তর্ভুক্তির জন্য ৮টি আবেদন জমা পড়ে। সেদিন বিকেলেই দাতা সদস্য প্রার্থী নাছিরুল ইসলাম তালিকা চেয়ে আবেদন করেন। তাই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় আমি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে আটজন দাতা সদস্য প্রার্থী একটি তালিকা তাকে দেই।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তুর্ভুক্তির জন্য ১২টি আবেদন জমা পড়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে রশিদ মুলে টাকা জমাদানকারী দাতা সদস্য প্রার্থী আব্দুল বাকী মন্ডল, রমিছা বেগম, আশরাফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ে রশিদ মুলে টাকা জমা করেছেন আর আবেদন জমা দিয়েছেন ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে। সহকারী প্রধান শিক্ষক আমার কাছে না জেনে ওই তালিকা দিয়েছেন। এ জন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রওশন আলম মন্ডল বলেন, সবাই বাতাস খাবে, শুধু প্রধান শিক্ষক বিল দিবে কেন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছে বিল নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলার জন্য সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। অন্য বিদ্যালয়ের চেয়ে আমরা রেজিষ্ট্রেশন ফি কমই নিচ্ছি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »