সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগান ধনতেরাস দিনটিকে

Feature Image

কয়েকদিন বাদেই কালীপুজো ৷ যা আবার অবাঙালিদের কাছে দীপাবলির উৎসব।আর তারই সঙ্গে কড়া নাড়তে থাকে ধনতেরাস। মূলত অবাঙালিদের মধ্যে এর প্রচলন থাকলেও এখন বাঙালিদের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এই উত্‍সব। এই উত্‍সবে মূলত সোনা অথবা ধাতু কেনা হয়। তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতেও সোনা কিনে রাখার চল শুরু হয়েছে৷ সময়ের বিবর্তনে এসে গিয়েছে গোল্ড ট্রেডেড ফান্ড কিংবা ডি-ম্যাটের মাধ্যমে সোনা কেনা৷

শুধু তাই নয় পেটিএম মারফত এক টাকায় সোনা কিনে তা ই-ওয়ালেটে রাখার ব্যবস্থা৷ তাছাড়া এই সময়টাকে কাজে লাগানো হয় অন্যান্য জিনিস কেনাটাকার জন্যও কারণ নানা রকম অফার দেয় বিভিন্ন সংস্থা৷ ইদানিং অনলাইন সংস্থাও সেই পথে হাঁটছে ৷ সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে এই সময় বাড়িতে ঢোকে টেলিভিশন, রেফ্রিজরেটর, মাইক্রোওয়েভ, ওয়াশিং মেশিন এমনকী, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও ।

দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উত্‍সব। এর আর এক নাম আছে। ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশী। “ধন” শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস হয়। বলা হয়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান ও তাদের ইচ্ছাপূরণ করেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা এদিন দামী ধাতু কেনে। সম্পদের দেবতা কুবেরও এদিন পূজিত হন।

অর্থভাগ্য এবং ধনপ্রাপ্তির আশায় ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী এবং কুবেরের পুজো করা হয়ে থাকে। কারণ প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই পুজো করলে পরিবারে সুখ, সমৃদ্ধি ভর ওটে। এই দিনে কুবের এবং লক্ষ্মীদেবীর পুজো করা হয়। এছাড়াও কথিত আছে , কুবের আজকের দিনে বিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় কারণে ভগবান বিষ্ণুর কাছ থেকে কিছু অর্থ নিয়েছিলেন। যার ফলে, এখনও বহু লোক ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে টাকা দান করেন, যাতে ভগবান বিষ্ণুর কাছে ধার শোধ করা যায়।

কথিত আছে, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সেদিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে স্ত্রী সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়।

পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। তারপরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালন শুরু হয়।

আবার ধর্মীয় বিশ্বাস মা লক্ষ্মী দুগ্ধ সাগর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন।একসময় দুর্বাশা মুনির অভিশাপে স্বর্গ হয় লক্ষ্মীহীন। রাক্ষসদের সঙ্গে লড়াই করে সমুদ্রমন্থনের পর ধনতেরাসেই দেবতারা ফিরে পান দেবী লক্ষ্মীকে।হারিয়ে যাওয়া লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনার উপাসনাই হচ্ছে ধনতেরাস।

ধনতেরাসের আগে সারা বাড়ি খুব ভালভাবে পরিষ্কার করতে হয়। এরপর ধনতেরাসের দিন সারা বাড়ি, বিশেষ করে মূল প্রবেশ পথের ওপর রঙ্গোলী দিতে হয়। এছাড়াও লাল রঙের রঙ্গোলী গুঁড়ো দিয়ে লক্ষ্মী দেবীর পা আঁকতে হয়। এরপর নিজের মতো করে লক্ষ্মী দেবীকে পুজো করতে হবে। পুজোর জন্য প্রথমে একটি লাল রঙের কাপড় নিতে হয়। এরপর একটি ঘট বা বাটি নিতে হয়। তবে এই পাত্রটি অবশ্যই ধনতেরাসের জন্য নতুন কেনা হতে হবে। এবার এই পাত্রের মধ্যে চাল দিতে হয়।

এছাড়াও, পাঁচটি সুপারি এবং ২১টি পদ্মবীজ দিতে হয়। সেই সঙ্গে আরও একটি ঘটিতে গঙ্গাজল ভরে, তারমধ্যে চিনি এবং সোনা বা রূপোর পয়সা দিতে হয়। আর জলের ওপরে ফুল বা মালা দিতে হয়। ঘরে যে লক্ষ্মী দেবী এবং গনেশের মূর্তি বা কয়েন আছে, তার ডানদিকে নতুন কেনা সোনা বা রূপোর গয়না রাখতে হবে। যদি নতুন কোনও গয়না না কেনা হলে তখন পুরনো কোনও গয়না, মূর্তি বা কয়েনের পাশে রাখতে পারেন। কেউ কেউ টাকাও মূর্তির পাশে রাখেন। নতুন প্রদীপ জ্বালাতে হবে এবং তা যেন টানা দু ঘণ্টা ধরে জ্বলে।

এছাড়াও ভগবানকে উৎসর্গ করে কিছু মিষ্টি এবং নৈবেদ্য দিতে হবে। ভারতবর্ষের কোনও কোনও অঞ্চলে এদিন গরুকে খাওয়ানোর চল রয়েছে। কেউ কেউ আবার বাড়ির প্রতিটি সদস্যের নামে প্রদীপ জ্বালায়। এমনকি পূর্ব পুরুষকে স্মরণ করে গঙ্গায় বা নদীতে প্রদীপ ভাসানোর প্রথাও আছে।

এই বছরে মঙ্গলবার ১৭অক্টোবর ধনতেরাস উৎসব পালিত হবে৷ এই বিশেষ দিনের পুজোরকাল সময় সন্ধে ৭টা ১৯ মিনিট থেকে ৮ টা ১৭ মিনিট ।এই পবিত্র সময়ে কিছু কিনলে তা লক্ষ্মীর সমাগম হিসেবেই দেখা হবে ৷

আরো খবর »