মানিকগঞ্জে মানববন্ধন

Feature Image

মানিকগঞ্জে সংখ্যালঘু শিক্ষিকার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন, দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মতো তাড়িয়ে দেবার হুমকি, প্রতিবাদে মানববন্ধন

মানিকগঞ্জ থেকে জালার উদ্দিন ভিকুঃ  মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা সদরে অক্সফোর্ড একাডেমীর সংখ্যালঘু শিক্ষিকার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

প্রধান শিক্ষকের অপসরণ ও শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন পালন করা হয়।
গত ৭ অক্টোবর শিবালয় উপজেলার অক্সফোর্ড একাডেমীর সহকারী শিক্ষক রেখা রানী দত্তকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে সাময়িক বরখাস্থকৃত (বর্তমানে অবৈধভাবে দ্বায়িত্ব পালনরত) প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন খান।

ইতি পূর্বে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা দূর্নীাতর অভিযোগে তাকে বহিস্কার করা হলেও নানা ছলচাতুরির আশ্রয়ে নিয়ে ৩ বছর পর এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে শিবালয় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশে আবার স্কুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন । দায়িত্ব গ্রহন করেই আবারও শুরু করেছে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা।

মানববন্ধনে অবিলম্বে এই দূর্নীতিবাজ ও নির্যাতনকারী প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও রেখা রানী দত্তকে চাকুরিতে পূনঃর্বহালের দাবী জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, অক্সফোর্ড একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান খান হিরু, ভুক্তভোগী হিন্দুধর্ম বিষয়ক সহকারী শিক্ষক রেখা রানী দত্ত, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তাপস রাজবংশী, হিন্দু মহাজোটের শিবালয় উপজেলা শাখার সভাপতি রামানন্দ পাল, অক্সফোর্ড একাডেমীর দাতা সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমূখ।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হিন্দুধর্ম বিষয়ক সহকারী শিক্ষক রেখা রানী দত্ত বলেন, আমি একাডেমীর প্রতিষ্ঠিা লগ্ন থেকেই (০২/০১/১৯৯৯খ্রিঃ) সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হইয়া অত্যান্ত সুনামের সাথে পাঠদান করিয়া আসিতেছি। আমি ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত হিন্দু ধর্মসহ অন্যান্য বিষয় পাঠদান করিয়া থাকি। আমি বাংলাদেশ সংকৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড-ঢাকা থেকে সংষ্কৃত বিষয়ে অদ্য/মদ্য/উপাধি ডিগ্রি লাভ করি এবং হিন্দৃ ধর্ম বিষয়ের উপর সিপিডি (ঈচউ) কোর্সসহ বি.এড কোর্স সমাপ্ত করিয়া সুনাম ও দক্ষতার সহিত সহকারি শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) হিসাবে সকল শ্রেনীতে পাঠদান করিয়া আসিয়া থাকাবস্থায় আমি এমপিও করার জন্য আবেদন করি। এমপিও চলাকালীন অবস্থায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন খান নিজে আর্থিক লাভবানের আশায় পর পর দুইবার হিন্দু ধর্ম শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। আমি বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি এবং কোন প্রতিকার না পাইয়া মানিকগঞ্জ জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করি যাহার নম্বর (১০৪/১১)। সে মামলায় আমি অবৈধ বিজ্ঞপ্তির উপর একটি নিষেধাজ্ঞা হই এবং আমার অনুকুলে পরপর ২বার ঘাটতি কাগজ পুরনের জন্য আদেশ দেন। এই আদেশের কপিসহ মতিন খানের নিকট আবেদন করে কোন ফল না পাই নাই। ঐ মামলায় একটি রায় আসে সহকারি শিক্ষক হিসেবে। আমি ঐ রায়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আপিল বিভাগে একটি মামলা দায়ের করি মামলা নং (১/২০১৬) এবং মামলাটির দীর্ঘ শুনানির পরে হিন্দু ধর্ম শিক্ষক হিসেবে রায় আমার অনুকুলে আসে। পরে এই রায়ের কপি আব্দুল মতিন খানের নিকট আবেদনের মাধ্যমে এমপিও ভুক্তির জন্য আবেদন করি। আদালতের এই রায়কে তোয়াক্কা না করিয়া তিনি পরপর ২বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। বিষয়টি জানতে পাড়ি[য়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কছে গেলে তিনি আমাকে জানান, উপজেলা নির্বাহিী কর্মকর্তার নির্দেশে করা হয়েছে। উপায় না পাইয়া ঘঞজঈঅ বরাবর হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক দেওয়ার জন্য পর পর দুইবার আবেদন করি এবং সেআবেদনরে কপি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরন করি। কোন প্রতিকার না পাইয়া উক্ত রায়ের উপর একটি নিষেধাজ্ঞা চাহিয়া সহকারি জজ আদালতে মামলা দায়ের করি যাহা বর্তমানে চলমান আছে। এমতাবস্থায় গত ২৭/০৯/২০১৭ হইতে দূর্গাপুজা, লক্ষীপুজা, মহররম উপলক্ষে ০৬/১০/২০১৭ তারিখ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ৭ অক্টোবর কার্যক্রম শুরু হলে আমি যথাসময়ে বিদ্যালয়ে হাজির হই এবং হাজিরা ও বেতন উত্তোলনের খাতায় দেখতে পাই আমার নাম। জানতে চাইলে তিনি জানান, তোমার নাম কেজি’র খাতায়ং আছে তুমি এখন থেকে কেজি স্কুলে শিক্ষক। তখন আমি বলি আমিতো মাধ্যমিক স্কুলে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক্ । আমি কেজি স্কুলের শিক্ষক না। আপনি ইচ্চা করলেই আমাকে বাদ দিতে পাড়েন না। বিদ্যালয়ের কমিটি ছাড়া আমাকে কেউ বাদ দিতে পারে না। এ কথা বলার পর তিনি ক্ষিপ্ত হইয়া উপস্থিত সবার সামনে আমার হাত থেকে হাজিরা খাতা কেড়ে নিয়ে এ অকথ্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে বিভিন্ন রকম ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করে রুম থেকে বের করে দেন। আর বলেন যে, আজতো মাত্র কেজিতে নামাইছি বেশী বাড়াবাড়ি করলে রোহিঙ্গাদের মতো দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করব। আমাকে চেন না, আমি কি করতে পারি?… পরে আমি মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করি, যা তদান্তাধীন।
এব্যাপারে, প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মতিন খান এর সাথে কথা বলার জন্য বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি এবং বেশ কয়েকবার তার মুঠোফনে (০১৭৭১১০৫৫২৬৬) কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরো খবর »