দুর্ঘটনায় আইসিইউতে পাত্রী, সেখানেই হলো বিয়ে

Feature Image

গয়নার বাক্স খুলে আংটিটা কাঁপা হাতে নয় বছরের প্রেমিকার আঙুলে আঙুলে পরিয়ে দিলেন প্রেমিক হিমাংশু পঙ্কজ বড়ো। বাঁ হাতের অনামিকায় আংটি ঢোকাতে গিয়ে কেঁপে উঠলেন পাত্রী সঙ্গীতা বড়ো।
কিছুটা দুঃখে আর বাকিটা তীব্র যন্ত্রণায়। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে তার অশ্রু। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আইসিইউ ঘরের কড়া ঠান্ডা ছাপিয়ে ওঠে প্রেমের উষ্ণতয়।

গত রবিবার এমনই এক ভালোবাসার সাক্ষী হলো ভারতের গুয়াহাটির অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউ। হাসপাতালের আইসিইউয়ের ভারি, গম্ভীর পরিবেশটা গত রবিবার সকাল থেকেই ছিল অন্য মেজাজে। এই প্রথম আইসিইউয়ের ভিতরে আংটি বদল বলে কথা। হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারদের মুখ সকাল থেকে হাসি-হাসি। পাশের বেডের রোগীরাও যন্ত্রণা ভুলে অপেক্ষায় ছিলেন সন্ধ্যায় ভিজিটিং আওয়ার্সের। পাঁচটা বাজতেই হিমাংশু পঙ্কজ বড়ো ও তার বাবা-মা দরজা খুলে ঢুকতেই ঝপ করে উৎসব নেমে এল আইসিইউ রুমে।

হিমাংশু ও সঙ্গীতার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে। গত রবিবার ছিল হিমাংশু-সঙ্গীতার পারিবারিকভাবে আংটি বদল এবং আশীর্বাদের তারিখ। তাই গত ৮ অক্টোবর বিয়ের প্রস্তুতির জন্যই গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন সঙ্গীতা ও তার বাবা। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার বাবা ও গাড়িচালক মারা যান।

গুরুতর জখম ও অজ্ঞান অবস্থায় সঙ্গীতাকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। সঙ্গীতা নিজেও বাঁচার আশা হারিয়ে ফেলেন। গত শনিবার সঙ্গীতার জ্ঞান ফেরে। পরের দিন সকালে সঙ্গীতা হঠাৎ জানান, ওই দিনই তিনি হিমাংশুর হাতে আংটি-সিঁদুর পরতে চান। তাই সঙ্গীতাকে খুশি করতে নিয়ম ভেঙেই আইসিইউতে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সঙ্গীতার ইচ্ছামতো তাকে আংটি পরিয়ে দেন হিমাংশু। গায়ে তুলে দেন নতুন শাড়ি। হবু বউমাকে আশীর্বাদ করেন হিমাংশুর বাবা-মা। সঙ্গীতার কপাল ও সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে দেন হিমাংশু। তার পরনে ছিল নতুন পাঞ্জাবি। আশীর্বাদের পরে নার্স, ডাক্তার, অন্য রোগী ও তাঁদের পরিবারসহ সবাইকে মিষ্টিমুখ করায় হিমাংশুর পরিবার।

আরো খবর »