ছেলেদের বলা দৈনন্দিন ১০টি মিথ্যা

Feature Image

নিউজ ডেস্কঃ মিথ্যা বলা যেখানে কোন প্রয়োজন নাই তবুও ছেলেরা কিছু বিষয়ে ইচ্ছা করেই মিথ্যা বলে।মিথ্যা বলে যে শুধুই সম্পর্কের ভিত্তি নড়বরে হয়ে যায় শুধুই তাই নয় বরং অনেক প্রকার সন্দেহ, ভিতি, ক্ষোভ ও বোঝাপড়ায় ঝামেলার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, যখন ছেলেরা সে কোনো বিষয়ে মেয়েদের কাছে ধরা পড়ে যায় অথবা মেয়েদের সামনে নিজেকে অনেক বেশি স্মার্ট প্রমাণ করার চেষ্টা করে। আসলে মিথ্যাগুলো সম্পর্কের জন্য খুব বেশি ক্ষতিকর না কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আস্তে আস্তে আস্থা, বিশ্বাস ও ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা বাড়তে থাকে।

ছেলেরা যেসকল মিথ্যা দৈনন্দিন ভিত্তিতে কারণে বা অকারণে বলে-

১. অন্য মেয়ের দিকে তাকাই নি

আপনার প্রেমিক কখনোই স্বীকার করবে না যে, আপনি সঙ্গে থাকাবস্থায় সে অন্য কোনো মেয়েকে দেখেছে। যদিও আপনি নিজেই সেই দৃশ্য দেখে ফেলেছেন। তবুও তাকে দিয়ে আপনি স্বীকার করাতে পারবেন না যে, সে এই কাজটি হরহামেশাই করে।

বিশেষ করে শপিং মল, রাস্তায়, এয়ারপোর্টে-যেসব জায়গায় ভিড় বেশি থাকে এবং মেয়েদের আনাগোনা বেশি থাকে সেখানে আপনার পুরুষ সঙ্গীটি অবচেতন মনেই অন্য মেয়েকে দেখতে ভুল করবে না। আর এ বিষয়ে মিথ্যা বলতেও কয়েক সেকেন্ড দেরিও করবে না সে। যদিও সে অন্য মেয়েকে দেখে তাও সেটা নিয়ে মিথ্যে বলার কোন দরকার নেই ব্যাপারটি আপনি বুঝলেও ছেলেরা বুঝবেন না।

২. আমি সিগারেট খাইনা

সিগারেট খাওয়ার পর ছেলেরা প্রেমিকা বা স্ত্রীর কাছে কখনোই এ বিষয়টি স্বীকার করবে না। উল্টো মিথ্যা কথা বলে সেটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে।

মেয়েরা এদিকে খুব পাকা, তারা দেখলেই বুঝে যায় যে কখন ছেলেটি সিগারেট খেয়ে এল, কিন্তু নিজের মিথ্যা বাণীকে সত্যতে রূপান্তর করতে ছেলেরা সামান্য দেরিও করে না।

৩. আমার সারাদিন তোমাকে ভেবেই কাটে

কখনো যদি আপনার প্রেমিক বা স্বামী আনমনে চিন্তা করে এবং তার মুখের কোনে এক চিলতে হাসি থাকে, তাহলে ধরে নেবেন সে নির্ঘাত অন্য কিছু বা অন্য কাউকে নিয়ে ভাবছে। যদিও এ কথা সে স্বীকার করবে না। বরং উল্টো আবেগি সুরে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, সে ঠিক সেই মুহূর্তে আপনার কথাই ভাবছিল এবং সারাক্ষণ সে আনমনে আপনার কথাই ভাবে।

একথা কখনোই বিশ্বাসযোগ্য না তবুও আপনার সঙ্গীর আপ্রাণ চেষ্টা এটিই থাকবে আপনার কাছে।

৪. নিজের দোষ স্বীকার না করা

নিজের অক্ষমতা বা ভুলের কথা তারা কোনভাবেই জানাতে চায় না। নিজের সম্মান ও অহংবোধের জন্য মিওথ্যা বলে। যদি তার প্রেমিকের কখনো চাকরি না হয় বা চলে যায় তাহলে সে এ ধরনের কথাই বলবে। আপনাকে বুঝাতে চাবে সে পারে কিন্তু নিজে থেকেই এমনটা করেছে। কারণ সে কখনোই আপনার সামনে প্রকাশ করতে চাইবে না যে তার ভুলের কারণেই চাকরিটি হয়নি বা চলে গেছে।

৫. অহংকারী মনোভাব

ছেলেরা বেশিরভাগ বিষয়েই নিয়ম কানুন ও বিধান মেনে কাজ করতে চায় না, তাদের মতে নিয়ম কানুন তাদের স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ করে। যেরকম উন্নত প্রযুক্তি এবং দ্রুতগতির গাড়ি বাজারে পাওয়া যায় তাতে চড়ে ছেলেরা নিজেকে রাস্তার মালিক মনে করে। সে ভাবে ইচ্ছা এবং যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। আর আপনি সাথে থাকলে সে এমন ভাব দেখাবে যে এটা কোনো বিষয়ই না তার জন্য।

এসব সময়েই দূর্ঘটনা ঘটে যার জন্য তারা যদিও দায়ী তবুও তা ভাগ্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টায় থাকবে।

৬. তুমি ছাড়া আমি একদম একা

এর থেকে বড় মিথ্যা কথা আর কিছু হতে পারে না! এমনটা হওয়া সম্ভবপর নয় কারণ একজন মানুষ কখনই আরেকজন মানুষ ছাড়া বাঁচে না তা হতে পারে না। অতিরিক্ত আবেগী হয়ে মানুষ এধরনের কথা বার্তা বললেও আসলে এর কোন ভিত্তি নেই। ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি বেশি পরিলক্ষিত। আপনি যখন তাকে কিছুদিনের জন্য একা রেখে যাবেন তখন সে ভাবখানা এমন দেখাবে যে, আপনাকে ছাড়া সে কিছুই বোঝে না। একটা দিনও আপনাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। পুরোটাই মিথ্যা। বরং উল্টো সে খুশি হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি দেবে। আর মনে মনে ভাববে, ‘যাক বাবা বাঁচা গেল, অন্তত কিছুদিন শান্তিতে নিজের মত করে থাকা যাবে।’

৭. আমি আসলে একটা কাজে ব্যস্ত কিংবা আমি ভাবছি একটা ব্যাপারে

যখন সে সত্যি সত্যি ঘুমানের চেষ্টা করছে আর আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছেন তখন সে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, সে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবছে। সুতরাং এ সময় তাকে না জ্বালানোটাই ভালো। মনে রাখবেন, এ ধরনের কথা সে কাজ করার সময় বা টিভি দেখার সময় বেশি করে থাকে। আবার অনেকে বন্ধুদের সাথে রাতে বাইরে যাবে বা সারারাত গেমস খেলবে তখনো এমন বাহানা বানিয়ে দিবে।

৮. আমি কিছুই ভুলি না

আপনার প্রেমিক বা স্বামী কোনো বিষয়ে ভুলে যাবে আর আপনি তাকে মনে করিয়ে দেবেন, তখন সে এমন ভাব দেখাবে যে বিষয়টি তার মনে ছিল এবং সে আপনাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আগেভাগেই আপনি বলে দিয়েছেন। তাই আর সারপ্রাইজটি থাকল না। খুব জোর গলায় সে এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে, যাতে আপনি তার কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য হন।

এমনকি তার ব্যবহার ও পরবর্তি আচরণেও আপনি এটা স্পষ্ট টের পবেন।

৯. আমি সব সময় এসব নিয়ে ভাবি না

যদি কোনো বিষয় আপনার অপছন্দ কিন্তু আপনার প্রেমিক বা স্বামীর পছন্দ হয় তাহলে জিজ্ঞাসা করার পরও সে স্বীকার করবে না যে, বিষয়টি নিয়ে সে মনে মনে ভাবছে। উল্টো সে আপনাকে বোঝাবে যে, আমি সব সময় এসব বিষয় নিয়ে ভাবি না। তোমার যা আমারো তা, আমার কাছে টমার চাওয়া টাই বেশি।

১০. শারিরিক পরিবর্তনের ব্যাপারে

ছেলেরা মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে এ কথা সহসা স্বীকার করবে না। বরং নতুন লুকের জন্য সে এমনটা করেছে আপনাকে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করবে। যদিও ঘটনাটি পুরোই উল্টো। তবুও ছেলেরা বিষয়টি স্বীকার করতে চাইবে না।

সে বোঝাবে যে খুব ফ্যাশনচেতা সে তাই এমনটি করেছে, অন্যরকম লুক আনতে চেয়েছে কারণ আপনার ভাল লাগে তাই।

আরো খবর »