যে ১৭টি কাজ আপনাকে করবে স্মার্ট

Feature Image

নিউজ ডেস্কঃ অসাধারন কিংবা সবার থেকে ভিন্ন মন মানসিকতা থাকা এক ধরনের স্মার্টনেস বলে ধরা হয়।আমাদের মাঝের উচ্চ ভাবনা,চেতনা ও জ্ঞান কে প্রকাশের মাধ্যমেই আমরা হয়ে উঠি স্মার্ট।নিজ প্রতিভাকে বিকশিত করে সকলের সামনে তুলে ধরে নিজের দৃষ্টিকোণ প্রতিষ্ঠা করাই হলো স্মার্টনেস।

প্রত্যহ কিছু কাজ করার মাধ্যমে স্মার্ট থাকার চর্চা করা যেতে পারে-

১. ঘুম থেকে উঠার আধাঁ ঘন্টার মধ্যে ২ গ্লাস পানি পান আপনার ঘুমিয়ে থাকা মস্তিষ্ক জাগিয়ে তুলবে।মানুষ ঘুমাবার পরে তার মস্তিষ্ক কাজ করেনা, যার ফলে শরীরের মাঝের তরলের ভারসাম্য পরিস্রাবিত হয়ে কাজ করতে পারে না। সে জন্যই ঘুম থেকে উঠেই পানি খাওয়া প্রয়োজন।

২. সকালের নাস্তার টেবিলে বসে যেকোন বইয়ের শেষ পাতা অথবা সংক্ষিপ্ত বিবরণ পড়া আপনার সারাদিনের কাজকর্মে ইতবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

৩. সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝে যেটুকু সময় পাবেন তখন কিছুটা সময় হতে পারে ১০-১৫ মিনিট বুদ্ধিমত্তার চর্চা হতে পারে এমন কোন গান, সঙ্গীত ও হালকা মিউজিক শুনতে পারেন।

৪. ঘরে বাইরে বা অফিসে বসে কাজ করার সময় সময় গ্রিন-টি খান। ইচ্ছে না করলে অভ্যেস করুন অল্প অল্প করে খাওয়ার এতে মস্তিষ্কের

৫. কাজের বিরতির মাঝে পাওয়ার ন্যাপ নেয়ার চেষ্টা করুন। একটানা কাজের মধ্যে বিষণ্ণতা চলে আসে। মস্তিষ্ক কে সচল ভাবে কাজ করিয়ে নিতে ১৫ মিনিটের ন্যাপ কার্যকরী।

৬. দৈনিক খাবারের তালিকায় মিষ্টি জাতীয় খাবার রাখবেন না চিনিতে ফ্যাটি এসিড থাকে যা আপনার মস্তিষ্কের কাজের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে নিস্তেজ করে ফেলে। দুপুরের লাঞ্চ ও বিকেলের নাস্তায় অবশ্যই মিঠে খাবার বদলে রাখুব মাছ ও সবিজি জাতীয় খাবার।

৭.ইন্টারনেটের ব্যবহার দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে করুন। সাধারনত সোশ্যাল মিডিয়ায় পায়চারী করতে করতে আমরা সময় ভুলে যাই, একটানা ৩-৪ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্যবহার কাজের গতি কমিয়ে দেয়।তাই একটি সময় ঠিক করে রাখুন কখন থেকে কখন আপনি নেট ব্রাউজ করবেন তা মেনে চলার চচা করুন ধীরে ধীরে।

৮. টিভি সিরিজ ও মুভি দেখার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক তথ্য পায় কিন্তু সেগুলো কাজে লাগানো যায় না যার ফলে স্তূপাকারে জমতে থাকে। রিসার্চে দেখা গেছে টিভি ও মুভি দেখার থেকে কার্যকরী ভূমিকা রাখে গেমস খেলা। গেমস খেলার মাধ্যমে মস্তিষ্ক যা পাচ্ছে তাই আবার কাজে লাগাতে সক্ষম। পরিচর্যার দ্বারা তাই সচল থাকে মস্তিষ্ক যা আপনার প্রতিভাকে বিকশিত করে।

৯.বেশি বেশি বই পড়ার চেষ্টা করুন, বই জ্ঞানের মহল সৃষ্টি করে।

১০. অবসর সময়ে সৃজনশীল কোন কাজ করুন, হতে পারে কোন প্রোগ্রামিং এর কাজ।অথবা হতে পারে পাযেল মিলানো,সুডুকো ও কিছু বানানো।

১১.কোন কাজ করছেন হতে পারে বাসন-কোসন মাজা বা রান্না,সেসময় পাশের জনের সাথে আধুনিক বিশ্ব, ইতিহাস, প্রযুক্তি, শিক্ষা দিক্ষা নিয়ে কথা বলুন। আপনার জানা তথ্য তাকে জানান ও অজানা তথ্য তার থেকে জেনে নিন।

১২. দিনব্যাপী কাজ করায় আমাদের মাঝে কিছু শারীরিক অস্থিরতা কাজ করে,অনেক সময় অস্বস্তি লাগে এমতাবস্থায় সাধারণ কিছু ব্যায়াম ও অনুশীলন করে নিন। শরীরের জড়তা কেটে যাবে।

১৩. অভ্যাস সামাজিক ভাবেই সংক্রামক। আপনার থেকে স্মার্ট জ্ঞানী এমন ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটান। নিজস্ব ধ্যান-ধারণার পরিবর্তনের সাথে সাথে তার থেকেও কিছু তথ্য আপনি নিজের কাজে লাগাতে পারেন। কথায় আছে সৎ সঙ ও জ্ঞানী ব্যক্তির সান্নিধ্য অপার সম্পদ।

 

১৪.বন্ধুত্বপূর্ণ যুক্তিতর্কে কথা বলুন মানুষের সাথে, তাদের মনোভাব ও আপনার মনোভাব নিয়ে কথা বলুন। তারা কি ভাবছে কেন ভাবছে সেটা জেনে নিয়ে আপনার মতবাদ ও সুক্তি প্রস্তাব করুন। যুক্তি স্থাপন থেকেও বড় হলো কথা বলে মানুষের ব্যাপারে জানা।

১৫.হাঁটার অভ্যেস করুন। খাবার আগে ও পরে অথবা সকাল বেলায় শান্ত স্নিগ্ধ ঠান্ডা পরিবেশ হাঁটাহাঁটি আপনার বাকি দিনের কাজকে গতিশীল করবে।

 

১৬.লিওনার্দো দা ভিঞ্চি মত গ্রেট মাইন্ড ব্যক্তিবর্গ সবসময় একটি নোটপ্যাড বহন করতেন।পরে পর্যালোচনার জন্য ধারনা , স্কেচ এবং প্রশ্ন টুকে নিতেন। যা নিয়ে পরে নিতে ভাবতেন,সমাধান খোঁজার চেষ্টা করতেন।আপনিও একটি ছোট ডায়রি বা নোটপ্যাড ব্যবহার করতে পারেন।আপনি আপনার কৌতূহলি এবং লজিক্যাল চিন্তা লিখে নিন।

 

১৭. দিনের শেষে নিজের জন্য ১০ মিনিট নিন। সারাদিনে কি কি কাজ করলেন, কেন করলেন,কি কি সংশোধন করা উচিত, কোন কাজে আপনি লাভবান এবং কোন টায় আপনার ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে ভাবুন। সবশেষে পরের দিনের জন্য তালিকা করে স্বস্থির নিশ্বাস নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।

আরো খবর »