বাবার কোলেই ঢলে পড়ল শিশুটি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

অার্ন্তজাতিক ডেস্ক: নয় বছরের ছোট্ট শিশুটির গায়ে প্রচণ্ড জ্বর। দিনমজুর বাবা রামবালাক সময়মতো মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারেননি। আর অপেক্ষা করতে না পেরে ছয় দিন পর বিহারের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স হাসপাতালে (এআইআইএমএস) তাকে নিয়ে ছুটে যান তিনি। কিন্তু হাসপাতাল থেকেও সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া হলো না মেয়েটির। টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বাবার কোলেই ঢলে পড়ল মেয়েটি।

মেয়ের লাশ ১৪০ কিলোমিটার দূরে বাড়িতে নিয়ে যেতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের আবেদন করে সেটাও পাননি এ অসহায় বাবা। পরে মেয়ের লাশ কাঁধে বয়েই হাসপাতাল ছাড়েন তিনি।

সংকটাপন্ন রোগীর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার প্রয়োজন নেই। তবুও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলায় মেয়েটির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় রাজ্যের দরিদ্র রোগীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নিতীশ কুমার সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান (আরজেডি) লালু যাদব। এ ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছেন তিনি।

রামবালাক অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার গুরুতর অবস্থায় তিনি তাঁর মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালটিতে যান। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা না দিয়ে বহির্বিভাগে টিকিট কাটার জন্য তাঁকে লাইনে দাঁড়াতে বলা হয়। রামবালাক বলেন, প্রায় দেড় শ কিলোমিটার দূরে কাজরা গ্রাম থেকে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে যান। টিকিট কাটার লাইনে দাঁড়িয়েও মেয়েটির দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ জানান। সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। কাউন্টারের কাছে পৌঁছার পর চিকিৎসক দেখানোর আগেই মেয়েটি মারা যায়।

হাসপাতালের একজন কর্মী বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে রামবালাক যতক্ষণে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে মেয়েটি বাবার কোলেই মারা যায়।

বাবার দুঃস্বপ্নের এখানেই শেষ হয়নি। মেয়ের লাশ হাসপাতালের গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছানোর অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেন এখানকার কর্মকর্তারা। বাইরের গাড়ি ভাড়া করার মতো পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় রামবালাক মেয়ের লাশ কাঁধে বয়ে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গিয়ে একটি অটোরিকশা ভাড়া করেন। এরপর বাড়ি পৌঁছান তিনি। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক প্রভাত কুমার বলেন, চিকিৎসা না পেয়ে কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগী এই হাসপাতালে মারা গেছে—এমন খবর তাঁর জানা নেই।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »