পটুয়াখালীতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪টি গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারও মানুষ 

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: পটুয়াখালীতে বিভিন্ন স্থানে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ও উপচে ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উচ্চ জোয়ারের পানি আর টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে অর্ধশত চরসহ জেলার ফসলি জমি ও মাছের ঘের।

পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেতের কারণে বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আর নদী বন্দরে ২ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলায় অভ্যন্তরীণ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালী নদী বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অন্ত্যন্তরীণ নৌ-রুটে ৬৫ ফুটের নিচে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিম্নচাপ আর অমাবস্যার জোয়ারের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কোথাও কোথাও ২ থেকে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। আর এসব কারণে মানুষের বেড়েছে দুর্ভোগ। জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।

কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তারেকুজ্জামান তারা জানান, তার ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ীবাঁধের চারিপাড়া ও পশরবুনিয়া পয়েন্টে থেকে পানি প্রবেশ করে লালুয়া, চারিপাড়া, নাওয়াপাড়া, পশরবুনিয়া, গাজীর খাল, বানাতিপাড়া, মুন্সিপাড়া, ডঙ্কুপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ফসলি জমি।

বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। রাস্তাঘাট বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় ওই গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

এছাড়াও মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর পয়েন্টে থেকে পানি প্রবেশ করে নিজামপুর, কোমরপুর, সুধিরপুর, পুরান মহিপুর গ্রাম তালিয়ে গেছে।

এদিকে উচ্চ জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পটুয়াখালী অর্ধশত চর প্লাবিত হয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের ও পুকুর। টানা বর্ষণের ফলে পানিতে তলিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া ও পশরবুনিয়া পয়েন্ট এবং মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর পয়েন্টে কিছু অংশ অরক্ষিত বেড়ীবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রমজানপুর পয়েন্টের বেড়ীবাঁধ ঝুঁকির মধ্যে  রয়েছে। সেখানে লোকজন লাগানো হয়েছে বেড়ীবাঁধটি ভেঙে যাতে গ্রামে পানি ঢুকতে না পারে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, বিভাগের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ীবাঁধের অবস্থার তেমন কোন অবনতি হয়নি। তবে মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর কালিকাপুর পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে নদী ভাঙনের ফলে ৭-৮ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার নিচে এখনও পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »