আব্দুস সালাম অন্তর এর ছোট গল্প মেঘের কান্নায় শীতের আগমন

Feature Image

আজ দুইটা দিন মেঘের কান্না অনবরত বৃষ্টি হয়ে ঝড়ছে। সূর্য কে চুপি সারে লুকিয়ে রেখেছে তার আঁচলে। কোনো মতেই থামছে না তার কান্না। কে নিবে এই অশ্রুর ভাগ, তবে মাটি নিয়ে ছিলো কিছুটা ভাগ।

যখন যে আর জমা রাখতে পারল না তখন কিছুটা দিল পুকুর কে অার পুকুর ও যখন পারল না এত জল জমা রাখতে, তখন সে দিল খাল কে খাল যখন তার গর্ভে এতো জল জমা রাখতে পারলো না তখন সে গড়িয়ে দিলো বিলকে। আর যখন বিল ও জল জমিয়ে রাখতে পালো না তখন সে নদীর কাছে সঞ্চয় করে রাখতে দিলো। নদী তো এক সময় সেই জলের ভারত্ব বইতেই পারছিলো না সে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ঢেলে দিলো সাগরের বুকে। সাগর তার বিশাল হৃদয় দিয়ে খুব যত্নে রেখে দিলো তার কাছে।

 

সারাদিন বাইরে বৃষ্টি, মানুষের গল্পের বই ও সকলে মিলে জটলা পাকিয়ে বসে গল্প করে সময় পার করা আর গায়ে শীতল অনুভূতি উপলব্ধি করার এমন ক্ষণী তো শীতের আগমন।

 

আর মেঘের এমন কান্নার দরূন প্রকৃতি পেয়েছে তার নতুন রূপ ও যৌবন। বাতাস খুজে পেল তার হারিয়ে যাওয়া শীতল অনুভূতি। এই বুঝি শীতকে আমন্ত্রণ জানানোর এতো আয়োজন। সকাল হলে কুয়াশা তার নিজ দায়িত্ব নিয়ে সবুজ ঘাস, গাছের সবুজ পাতা, ও ধানের শীশকে ভিজিয়ে দিবে প্রতিদিন। যখন সূর্য তার ঝলমলে কিরন নিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকাবে। তখন শিশির গুলো সেই আলোর তাপে চিকচিক করতে করতে মিশে যাবে প্রকৃতির মাঝে।

বৃষ্টি যেমন নিয়ে এলো শীতের আগমনী সুর ঠিক সেই সুরে প্রতিদিন প্রকৃতি সাজবে কুয়াশা মোড়া চাদরে।

খেজুর গাছে মিষ্টি রস আর বাতাসে ভাসবে পল্লী গায়ের বধূদের পিঠাপুলির সেই মধুর ঘ্রাণ। রাখালেরা গরু নিয়ে মাঠের পথ দিবে পাড়ি। কৃষকের ঘন কুয়াশা ঢাকা মেঠো পথ ধরে শীতের সবজী সংগ্রহে মাঠে ছুটে চলার ব্যস্ততা।কমলমতী শিশুদের ভোর সকালে চাদর ও শীতের পোশাক গায়ে স্কুলের পথে ছুটে যাওয়া সে যেন এক মন মুগ্ধকর অনুভুতি।

আরো খবর »