অন্ধত্বা জয় করে কানু চাচার জিবন চলা

Feature Image

হুমায়ুন কবির:  হেমন্তের কোয়াশা ঢাকা সকাল। সুন্ শান নিরবতা, পাখ পাখালির কোলাহল, তখনও সূর্য মামা উকিমারে নাই পূব আকাশে। মসজিদ থেকে মুসল্লীরা ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ী ফিরছে। দূর থেকে ভেসে আসছে পাউরুটি, এই পাউরুটি, সকালের নাস্তায় পাউরুটি, ক্রিম রুল পাউরুটি, ১টি মাত্র ৫টাকা।

 

এর মাঝে ঘুম ভেঙ্গে গেলো, দরজা খুলেই দেখলাম উঠানে দাড়িয়ে আছে জন্মান্ধ ৪০বছর বয়সী মোঃ হোসেন শেখ (কানু চাচা)। দরজা খোলার শব্দেই বুঝতে পারলো কানু চাচা হাক ডাকে কেউ না কেউ ঘর থেকে বেড়িয়ে আসছে। বাড়ীর মালিকের ছেলে হাসান (যুবরাজ) বললেন আমারে ২টা পাউরুটি দেন। অমনি হাত বাড়িয়ে মাথার উপর পাউরুটির ট্রে থেকে ১টি প্যাকেট বের করে ২টি পাউরুটি যুবরাজের হাতে দিলো এবং বলল ১০টি টাকা দিন। যুবরাজ ৫টাকার ২টি নোট দিয়ে বলল, দেখত ঠিক আছে নাকি? হাতের তালুতে ঘষা দিয়ে বলল হ্যাঁ টাকা টিক আছে। এভাবেই নিজ পাড়াসহ আরো ২টি পাড়ায় পাউরুটি বিক্রি করেন কানু চাচা।

জন্মান্ধ মোঃ হোসেন শেখ ওরফে কানু, পিতা মৃত আফতাব শেখ, খোকসা মাঠপাড়া, খোকসা, কুষ্টিয়া, স্ত্রী ও ২সন্তানের জনক জন্মান্ধ কানু চাচার সংসার চলে শীত মৌসুমে পাউরুটি বিক্রি করে, আর গরম মৌসুমে ঝুড়িভাজা বিক্রি করে। এ থেকে যা উপর্জন হয় তা দিয়েই কোন মত চলে তাদের সংসার। জন্মান্ধ হওয়ায় উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার একটি কার্ডও রয়েছে কানু চাচার। সরকারীভাবে নিয়মিতই ভাতাপান প্রায় বছর পাঁচেক। পৈত্রিক সূত্রে দেড়শতাংশ জমির উপর রয়েছে দো’চালা ১টি টিনের ঘর। ১ছেলে ১মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে রনি শেখ (১৪) লেখা-পড়া কপালে জোটেনাই আর্থিক দৈন্যতায়। বর্তমানে দিন মজুরীর কাজ করে ট্রাকের হেলপার হিসাবে। ৪র্থ শ্রেণীর পড়ুয়া রিতা খাতুন আল-হেলাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপাড়া করেন। ছাত্রী হিসাবে বেশ ভাল মেধাবী বললেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুন্সী লিটন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মান্ধ প্রতিবন্ধী কানু চাচার স্ত্রী পরিবারের ভরণ পোষণ নির্বাহে নিজের বাপ-চাচাদের সংসারেই গৃহস্থলির কাজ করেন।

 

বিনিময়ে যা পান তা দিয়েই কোন মত চলে কানু চাচার সংসার জীবন। নিজে একজন জন্মান্ধ প্রতিবন্ধী হলেও সমাজের পরিবারের কাররই বোঝা হতে চান নাই। এমনকি ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে কারো করুনার পাত্র হন নাই। নিজের আত্ম বলে বলিয়ান হয়ে কর্মের হাত দুটি আত্মনিয়োগ করে নিজেকেই শুধু নয় পুরা পরিবারে দায়িত্ব নিয়ে জীবন সংগ্রামে একদৃষ্টান্ত অনুকরনীয় হয়েছেন মোঃ হোসেন শেখ ওরফে কানু চাচা। এরকম হাজারও কানু চাচা আমাদের সমাজে অহরহ পাওয়া যায়। একটিবার ভেবে দেখেছেন কি? চোখটা বন্ধ করে দেখুন কতটা কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে এই অন্ধকার ভূবন থেকে কানু চাচা। করুনা নয় দায়বদ্ধতা থেকে আসুন আমরা কানু চাচার মত সকল অন্ধ ব্যাক্তির ন্যায্য পাওনা বুঝে দেই। অন্তত একটি পরিবারকে সাবলম্বী হতে নিজের অর্থ হাতটি বাড়িয়ে কানু চাচার কষ্টের কথাটি লাগব করতে দোকান নির্মাণ করে দেই।

আরো খবর »