ইবিতে নজিরবিহীন ফেল

Feature Image

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আল-ফিক্হ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগে ঐতিহাসিক ফেলের ঘটনা ঘটেছে। বিভাগের এমএলএম’র (মাস্টার্স) প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করেছে।

লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও মৌখিক ১০০ নাম্বারের পরীক্ষায় তাদের ফেল করানো হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের এলএলএম (মাস্টার্স) ২০১৩-১৪ সেশনের পরীক্ষা গত ১৬ জানুয়াী শুরু হয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। পরে ১১ মার্চ তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় সভাপতি ছিলেন বিভাগের ড.আবু বকর মোঃ জাকারিয়া মজুমদার এবং সদস্য ছিলেন ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন ও ড. মোছাঃ হামিদা খাতুন।
মৌখিক পরীক্ষায় বাহিরাগত বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সরকার আলী আক্কাস।
খাতা মূল্যায়ন শেষে কমিটি ফলাফল তৈরী করে গত ১৪ অক্টোবর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে জমা দেয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর গত ১৬ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশ করে। ফলাফলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জনকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। তাদের পরবর্তী বর্ষের সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের নোটিশ দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও ফেল করানো হয়েছে মৌখিক পরীক্ষায়। যেটা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে নজির। অনুষদীয় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষায় ১০০ নাম্বারের মধ্যে সর্বনিন্ম পাশ নাম্বার ৫০। অর্ডিন্যান্সে মৌখিক পরীক্ষার মান বণ্টনের সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা না থাকায় বোর্ডের সদস্যদের সম্মিলিত মতামত নিয়ে নাম্বার দেওয়া হয়।
মৌখিক পরীক্ষায় ফেল হলে পুনরায় পরবর্তী বর্ষে সকল কোর্স পরীক্ষা দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে । সেমতে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও মৌখিক পরীক্ষায় অকৃকার্যের কারণে তাদের ফলাফল অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থী একই শ্রেণীতে দুই বছরের অধিক সময় থাকতে পারবে না। ফলে মৌখিক পরীক্ষায় পাশ না করায় এক শিক্ষার্থীকে এলএলএম (মাস্টার্স) না করেই চলে যেতে হচ্ছে। এলএলএম (মাস্টার্স) এক বছরের কোর্সে ২০১৩-১৪ সেশনে ভর্তি হওয়া এ শিক্ষার্থীদের ২০১৪ সালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দীর্ঘ সেশনজটে ফলে এক বছরের মাস্টার্স কোর্স করতে তাদের ৪বছর পেরিয়ে গেছে। ২০০৯-১০ এলএলবি (অনার্স) শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ২০১৩ সালে অনার্স ও ২০১৪ সালে মাস্টার্স শেষ হওয়ার কথা। বিভাগের দীর্ঘ সেশন জটের কারনে এলএলবি ও এলএলএম মিলে ৫ বছরের কোর্স শেষ করতে সময় লাগছে ৮ বছর।

ফলে তাদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদিকে মৌখিক পরীক্ষায় ১১ জনকে ফেল করানোর ঐতিহাসিক নজির বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। যেহেতু মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো হলে ওই শিক্ষাবর্ষ ফেল বলে গণ্য হয়। সেজন্য মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে সর্বনিন্ম পাশ নাম্বার দেওয়া হয়। তবে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানোর নজির বিরল।
অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী বলেন,‘আমার কিছু বন্ধু মৌখিক পরীক্ষায় নাম স্বাক্ষর করে চলে এসেছে তারা পাশ করেছে। কিন্তু আমারা এত কি খারাপ করছি বুঝে আসে না। আর মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করেছি এটা আগে জানালে আমরা পুনরায় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতাম। কিন্তু হঠ্যৎ এভাবে রেজাল্ট দিয়ে অল্প সময়ে কিভাবে কি করব বুঝতে পারছি না।

কমিটির সভাপতি ড.আবু বকর মোঃ জাকারিয়া মজুমদার বলেন, “শিক্ষার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় খুবই খারাপ করেছে সেজন্য ভাইভা বোর্ড এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

আরো খবর »