ঈশ্বরদীতে অতি বৃষ্টিতে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

Feature Image

উপজেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে সেলিম আহমেদ: ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অতি বৃষ্টির কারণে কৃষকের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাতাসে ধানের গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। কোন কোন জায়গাতে ধান গাছ পড়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আধাপাকা ধানের। প্রায় জমির ধান পানির নিচে পড়ে আছে। শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে গতকাল বুধবার সকালে মাঠ পরিদর্শন করতে গেলে ক্ষতিগ্রহস্থ কৃষকেরা জানান, আমরা এই ধানের আশাতে বুক বেঁধে আছি আর হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে আমাদের কষ্ট করে উৎপাদিত ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এবার কৃষকেরা লক্ষ মাত্র অনুযায়ি ধান ঘরে তুুলতে পারবেনা। যেখানে প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মন ধান হতো সেখানে ৫ মন ধান হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। এছাড়া শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত কৃষক বেলি বেগম বলেন, তার দুই বিঘা শিম ক্ষেতে জলাবদ্ধতায় পানি বেঁধে থাকায় ফলন্ত শিম গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার মতো কষ্ট করে ধান লাগিয়ে যে সকল কৃষক লাভের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাদের গোলায় এবার ধান উঠবেনা।

বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ও বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রিয় সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ বলেন, টানা উপর বর্ষণে এবছর ঈশ্বরদীতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এবার তার খামারে ৪ বিঘা জমিতে টমেটোর চারা লাগিয়েছিলেন টানা বৃষ্টির কারণে তা মরে যাচ্ছে। ময়েজ বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে তার খামারের ৫ হাজার ফলন্ত পেঁপে গাছ মারা গেছে। তিনি সরকারের কাছে ঈশ্বরদীর ক্ষতিগ্রহস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রওশন জামাল বলেন, অতি বর্ষণের কারণে এবছর ঈশ্বরদীতে কৃষকের উৎপাদিত উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গে, পেঁপে গাছ পানি সহ্য করতে পারেনা। জমিতে পানি জমলে এসব গাছ মারা যায়। যাদের এধনের সবজি মারা গেছে তাদের স্বল্প মেয়াদি সবজি আবাদের জন্য কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি বের করার জন্য অতিদ্রুত কৃষকদের নালা তৈরির পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »