রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চাপে মিয়ানমার

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

অার্ন্তজাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের জন্য যথেষ্ট চাপের মুখে পড়েছে মিয়ানমার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এবার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারত ও চীনের সক্রিয় তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বড় দুই শক্তি অবশ্য দেশটির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে নিজস্ব উপায়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। সংকট নিরসনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কাজ করছে ভারত। অপরদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন কোনো পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিচ্ছে না। তাদের (চীনের) কাছে উভয় দেশেরই গুরুত্ব রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীন উদ্বিগ্ন। কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চীনের একজন বিশেষ দূত বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীন উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয়ভাবে সংকট নিরসন করুক এটাই চায় চীন। এ বৈঠকে চীনের দূত জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন কোনো পক্ষপাতমূলক অবস্থান নেবে না। চীনের কাছে উভয় দেশেরই গুরুত্ব রয়েছে। অপরদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ওইসিডি ও ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অবহিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমার কোনো সাড়া না দিলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ভাবছে বলে জানান বার্নিকাট।

বুধবার ঢাকায় একটি কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সফরের সময় সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কেননা এই পরিস্থিতির ফলে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভারত এসব রোহিঙ্গাদের টেকসই উপায়ে রাখাইন রাজ্যে ফেরত পাঠানোর প্রতি জোর দিয়েছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে ফিরে গিয়ে তারা যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তা নিরসনে মানবিক ত্রাণ নিয়ে ‘অপারেশন ইনসানিয়াত’ পরিচালনা করেছে ভারত। ভারত ইতিমধ্যে ৯২ হাজার ফ্যামিলি প্যাক খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে।

জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রটি আরও জানায়, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। তবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের কোনো দৃষ্টিভঙ্গি দেখালে তার ফল খারাপ হতে পারে। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোসহ সংকটের সার্বিক সমাধানের জন্য দ্বিপক্ষীয়ভাবে যুক্ত আছি। আমাদের এ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি রাখাইনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণে আমরা আগ্রহী। রোহিঙ্গাসহ সব সম্প্রদায়কে সেখানে বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এটা জরুরি।’ এক প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানায়, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি ভারতের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।’

এদিকে, রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা করতে চীনের এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সুন গোসিয়াং বুধবার ভোরে এক দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তিনি বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গুসিয়াংয়ের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর। ইতিপূর্বে এপ্রিলেও তিনি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »