সাংবাদিক উৎপলকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: ষোলো দিন ধরে নিখোঁজ সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেতে আকুতি জানালেন এক বাবা।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস।

সংবাদ সম্মেলনে চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ মানুষ। শিক্ষকতা করে জীবন চালিয়েছি। আমাদের কোনো শত্রু নেই। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা জটিলতা আমরা বুঝি না। আমরা আমাদের সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক উৎপলের বোন ববিতা রানী দাস ও  বিনীতা রানী দাস। ববিতা বলেন, ‘আমার ভাই প্রতিদিন একবার আমাকের কল দিয়ে জিজ্ঞেস করত দিদি কেমন আছিস। আজ কত দিন হলো, আমার সোনা ভাইটা আমাকে কল দেয় না। আমরা কী এমন ক্ষতি করেছি। উৎপলের জন্য আমার মা কিছু খায় না। কারো সঙ্গে কথা বলে না। জানি না এ মুহূর্তে আমার মা কী করছে। আমার কিছু চাই না, আমার ভাইটারে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৬ দিনেও প্রাণবন্ত, প্রাণচঞ্চল রিপোর্টার উৎপল দাস আমাদের মাঝে ফিরে আসেনি, যা শুধু উদ্বেগের বিষয় নয়; তাঁর স্নেহশীল বাবা-মায়ের জন্য ঘুম হারাম করা ভয়ের বিষয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এত দিন ধরে আমাদের সন্তানতুল্য সহজ-সরল উৎপল দাস। কোথায়, কেমন আছে? কী ঘটেছে তার জীবনে, কেন তার সন্ধান মিলছে না, আমরা বুঝতে পারছি না।’

‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রতি, এমনকি দেশবাসীর কাছে আমাদের আবেদন, যার যার জায়গা থেকে উৎপলকে ফিরিয়ে আনতে, তাঁর সন্ধানে তৎপর হোন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আজ একজন তরতাজা তরুণ সংবাদকর্মী এভাবে দিনদুপুরে নিখোঁজ হয়ে হারিয়ে যেতে পারেন না’, বলেন পীর হাবিব।

এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবিতে যে আন্দোলন করছি, সে আন্দোলনের এজেন্ডায় উৎপল দাসের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টাকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। উৎপলকে যত দিন আমরা ফিরে না পাব, তত দিন মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করব।’

উৎপলের পরিবারের সঙ্গে আজ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ দেখা করবেন বলে জানান শাবান মাহমুদ। এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে পীর হাবিবেব কথা হয়েছে জানিয়ে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, ‘তিনি (পুলিশ কমিশনার) পুরো বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। তিনি আন্তরিকভাবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।’

পূর্বপশ্চিম বিডি ডট নিউজ নামে একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন উৎপল। গত ১০ অক্টোবর মতিঝিলের অফিস থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন।

এর মধ্যে গত সোমবার উৎপলের মোবাইল নম্বর নকল করে স্পুফিং কল করে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, উৎপল তাদের কাছে আটক আছে। এক লাখ টাকা দিলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।

চিত্তরঞ্জন দাস এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নিখোঁজের পর থেকেই তাঁর ছেলের ফোন বন্ধ ছিল। সোমবার হঠাৎ ওই নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ ধানমণ্ডি এলাকায় উৎপলের মোবাইল সচল ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, উৎপল দাসের ভাই মনোহর চন্দ্র দাস, পলাশ চন্দ্র দাস, শুভ দেব ভৌমিক প্রমুখ।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »